চাঁদপুরের মতলব উত্তর ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার সংযোগস্থল ধনাগোদা নদীর ওপর নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ মতলব সেতু দীর্ঘদিনের সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে। সেতু দিয়ে প্রতিদিন হাজারো মানুষ চলাচল করলেও এর বেহাল অবস্থায় স্থানীয়দের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দু’পাশের রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের অভাবে নিচের মাটি-বালু সরে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় গর্ত। কোথাও উঠে গেছে কংক্রিট, বেরিয়ে পড়েছে লোহার রড। ফলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন পথচারী ও যানবাহন চালকরা। ভারী যানবাহন চলার সময় সেতুর উত্তর পাশ কাঁপতে দেখা যায়, যা আতঙ্ককে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মতলব উত্তর–দক্ষিণসহ চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার মানুষের যাতায়াত, ব্যবসা-বাণিজ্য ও নিত্যদিনের যোগাযোগব্যবস্থার প্রধান ভরসা এ সেতুটি। স্থানীয়দের ভাষায়—“দুই উপজেলার একমাত্র সেতুবন্ধন” এখন প্রায় অচল হওয়ার পথে।
এলাকাবাসী জানায়, একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জরুরি সেবা, শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ সাধারণ মানুষের
প্রতিদিনের চলাচল মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
মতলব বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, সেতুর উত্তর পাশের রাস্তাটি পুরোপুরি ভেঙে গেলে দুই উপজেলার যোগাযোগ একপ্রকার বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। এতে অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা ও দৈনন্দিন জীবনে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
চাঁদপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আলিউল হোসেনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে মতলব দক্ষিণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সওজের কাজ–সহকারী নাসির উদ্দিন জানান, “সেতুর উত্তর পাশের সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে। আগামী ৩–৪ দিনের মধ্যে কাজ শেষ হলে যান চলাচলের সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।”
স্থানীয়দের দাবি—ধনাগোদা সেতুর দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু না হলে দুই উপজেলার লাখো মানুষের নিরাপত্তা ও স্বাভাবিক চলাচল মারাত্মকভাবে হুমকির মুখে পড়বে।