পরিবারের মুখে একটু হাসি ফোটাতে মাত্র দুই মাস আগে প্রবাসের পথে পা বাড়িয়েছিলেন মতলব উত্তরের যুবক সলিম সরকার। স্বপ্ন ছিল স্ত্রী-সন্তানের ভবিষ্যৎ বদলাবেন, দারিদ্র্যের কষ্ট ঘুচাবেন। কিন্তু নিয়তি যেন তার সব স্বপ্ন কেড়ে নিলো নির্মমভাবে।
মাত্র ৪৮ দিনের মাথায়, প্রবাস ফেরত এলেন, কিন্তু জীবিত নয়, কফিনবন্দি হয়ে। দীর্ঘদিন মর্গে পড়ে থাকার কারণে
সলিমের মরদেহের অবস্থা ছিল ভয়াবহ। যা দেখে স্বজনদের চোখের পানি আর বুকফাটা আহাজারি যেন
কাউকেই না ছুঁয়ে থাকতে পারে না।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে সৌদি দূতাবাসের সহযোগিতায় ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায় তার মরদেহ।
এরপর শুক্রবার মতলব উত্তরের ছেংগারচর পৌরসভার
আদুরভিটি গ্রামে সলিমের লাশ পৌঁছালে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
বাবার কফিনের পাশে দাঁড়িয়ে ৭ বছরের এক শিশু ছেলে,
আর সাড়ে চার বছরের অবুঝ একটি কন্যাশিশু।
তারা বোঝে না, কেন বাবা আর কথা বলছে না, কেন বাবা আর কোলে নেয় না।
সলিম সরকার ছিলেন আদুরভিটি গ্রামের আবদুল ওহাব সরকারের ছেলে। দেশে তিনি ট্রলি চালিয়ে সংসার চালাতেন। তার শেষ আশাটুকু ছিল প্রবাস। কিন্তু সেই প্রবাসই হয়ে উঠলো তার জীবনের শেষ ঠিকানা।
জানা গেছে, গত ২৮ নভেম্বর সৌদি আরবের দাম্মামে একটি আবাসিক ভবনের নিচ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
স্বজনদের দাবি, সৌদি পৌঁছানোর কিছুদিনের মধ্যেই
তার মানসিক সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল। তবুও এই মৃত্যু আজও রহস্যের আড়ালেই রয়ে গেছে। আজ সলিম নেই। রয়ে গেছে শুধু ভেঙে পড়া একটি পরিবার, অভিভাবকহীন দুটি শিশু আর না বলা হাজারো প্রশ্ন। এই মৃত্যু কি দুর্ঘটনা? নাকি অবহেলা? নাকি আরও বড় কোনো রহস্য? উত্তরের অপেক্ষায়, সলিমের স্বজনরা।