চাঁদপুরের মতলব উত্তরের ইউপি চেয়ারম্যান ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালীর বাড়িতে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। একইসঙ্গে আলাদা পলিথিনে মোড়ানো কাফনের কাপড়, আতর, আগরবাতি ও গোলাপজলের সাথে থাকা এক চিরকুটে লিখে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে জেলার মতলব উত্তর উপজেলার একলাসপুরের কালীগাছতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী উপজেলার একলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী মতলব উত্তর উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক।
চিরকুটে উল্লেখ করা হয়, ‘তুই যা খাওযার খাইয়া লইস, যা করার কইরা লইস, তুই আগুন নিয়ে খেলছত, হাত তো তোর পুরবই, চাইছিলাম তোরে কাফন ছাড়া দাফন দিমু, কিন্তু না উপরের নির্দেশে তোকে কঠিন থেকে কঠিন মৃত্যু দিমু, তাই আজ তোর বাড়িতে পায়ের ধোলু দিয়ে গেলাম, কখনো ভাবিনি তোর সাথে এমন এমন হবে।’
এতে আরও লেখা হয়, ‘যে রাস্তা দেখায় তার সাথেই গাদ্দারি করস, মুরুবিব মানছস, চেয়ারম্যান হইছস পরবর্তিতে চেয়ারম্যান তো দূরের কথা চাকদার ও হতে পারবি কি না সন্দেহ, আর তোর জানাজা মানুষ পরতে পারে কিনা এবং তোর বডি মানুষ খুঁজে পায় কি না তা সন্দেহ, তোর জন্য আমার একটা সৈনিকই যথেষ্ঠ।’ ইতি বুঝে নিস সাবধান!
ইউপি চেয়ারম্যান মফিজ আলম মুন্না বলেন, সোমবার রাত ১০ টার দিকে তিনি বাড়িতে যান। এরপর প্রতিদিনের মতো তিনি বাড়ির উঠোন থেকে ফোনে কথা বলতে বলতে বাড়ির ছাদে উঠেন এমন সময় হঠাৎ করে বিকট শব্দ হয়। এ ঘটনার পর পুলিশকে খবর দেই। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হলে সামনে একটি পলিথিন দেখতে পান। তবে সেটিতে হাত দেননি তিনি। পুলিশ আসার পর সেটি খুলে ভেতরে একটি কাফনের কাপড়, গোলাপজল, আতর ও চিরকুট ও দুইটি চকলেট বোমা পাওয়া যায়। পরে সেগুলো পুলিশ নিয়ে যায়। এমন হুমকি পাওয়ায় তিনি চরম উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত।
মতলব উত্তর থানার ওসি কামরুল হাসান মতলব টুডে ডটকমকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দুটি চকলেট বোমা ও কাফনের কাপড়সহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে। অভিযোগ সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।