আজ বুধবার

৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

বিকাল ৪:০৪

মতলবে ৬৮ লাখের ব্রিজ, নেই ওঠানামার রাস্তা!

393 Views

চাঁদপুরের মতলব পৌরসভায় ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত
একটি গার্ডার ব্রিজ আজ প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে অব্যবহৃত পড়ে আছে। ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়ক নির্মাণ না করায় এটি কোনো কাজেই আসছে না। ফলে পৌরসভার অন্তত ১০ গ্রামের প্রায় ২৫ থেকে ৩০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তির মধ্যে দিন পার করছেন।

মতলব পৌরসভার চরমুকুন্দি, শীলমন্দি, ঢাকিরগাঁও, নবকলস, উদ্দমদী, কাজিরবাজার, শোভনকর্দীসহ আশপাশের গ্রামের মানুষ বর্তমানে নিজেদের উদ্যোগে তৈরি করা বাঁশের সাঁকো দিয়েই যাতায়াত করছেন। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ এই সাঁকো ব্যবহার করতে গিয়ে শিশু, শিক্ষার্থী ও বয়স্কদের দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের আওতায় মতলব দক্ষিণ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসের তত্ত্বাবধানে মতলব-বাবুরহাট খালের ওপর ৫০ ফুট দীর্ঘ ও ১৪ ফুট প্রশস্ত গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মাধ্যমে কাজটির বাস্তব দায়িত্ব পান গোলাম মোস্তফা নামের এক ঠিকাদার। তবে নির্মাণ শেষে ব্রিজের দুই পাশে সংযোগ সড়কের কাজ না করেই প্রকল্প সম্পন্ন দেখিয়ে জামানতের টাকা উত্তোলন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, ব্রিজটি এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুই পাশে মাটি ভরাট ও সংযোগ সড়ক না থাকায় সেখানে ওঠানামা করা সম্পূর্ণ অসম্ভব। ফলে প্রতিদিন হাজারো মানুষ বাধ্য হয়ে ব্রিজের পাশেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো ব্যবহার করছেন।

চরমুকুন্দি এলাকার বাসিন্দারা বলেন,
“ব্রিজ বানানো হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ওঠার কোনো ব্যবস্থা নেই। তিন-চার বছর ধরে একদিনও এই ব্রিজ ব্যবহার করতে পারিনি। এখন আমরা আশাও ছেড়ে দিয়েছি।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী কামাল হোসেন জানান, তাঁর লাইসেন্সে কাজ হলেও প্রকৃত নির্মাণকাজ করেন সোনালী এন্টারপ্রাইজের মালিক গোলাম মোস্তফা। অন্যদিকে গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, তিনি মাটি ভরাট করেছিলেন।

এ বিষয়ে মতলব দক্ষিণ উপজেলার সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রবিউল ইসলাম খান বলেন, “সংযোগ সড়ক পৌরসভার করার কথা ছিল। তারা বালু দিয়েছিল, কিন্তু বর্ষার পানিতে সেগুলো সরে গেছে।”

বর্তমান পিআইও আনোয়ার হোসেন বলেন,
“বিষয়টি এই প্রথম জানলাম। ব্রিজের দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য দ্রুত একটি প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

জনস্বার্থে দ্রুত সংযোগ সড়ক নির্মাণ করে ব্রিজটি ব্যবহারের উপযোগী করার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের মতে, সামান্য অবহেলার কারণে কোটি টাকার সমপরিমাণ জনদুর্ভোগ তৈরি হয়েছে, যার দায় এড়ানো যায় না।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ