চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণাকে কেন্দ্র করে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে। এদিকে আলোচনায় থাকা জামায়াতে ইসলামীর নেতা ডা. মোবিনকে জোটের চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এতে করে জামায়াতের নেতাকর্মীসহ সাধারণ ভোটারদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সাংগঠনিক কার্যক্রম, সামাজিক যোগাযোগ এবং দাওয়াতি কাজে সক্রিয় থাকা ডা. মোবিনকে মনোনয়ন না দেওয়াকে অনেকেই ‘অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত’ হিসেবে দেখছেন। স্থানীয় জামায়াত সমর্থকদের মতে, মাঠপর্যায়ে তার গ্রহণযোগ্যতা ও সক্রিয়তাকে উপেক্ষা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মনোনয়ন বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ডা. মোবিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক স্ট্যাটাসে আবেগঘন বার্তা দেন। তিনি লেখেন, “দীর্ঘ সময় নিরলস দাওয়াতি ও দ্বীন প্রতিষ্ঠার কাজ করেছি একসাথে। আশাকরি তা ভুলবেন না— যখনই মনে পড়ে আপনাদের মাঝে আমার বিচরণ— পুনরায় মিলনের আকাঙ্ক্ষা রাখুন দাওয়াতের ময়দানে এবং আসমান-জমিনের চেয়ে প্রসারিত জান্নাতের বাগানে।”
তার এই স্ট্যাটাস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেক নেতাকর্মী মন্তব্যে হতাশা প্রকাশ করেছেন।
এরই মধ্যে ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে চাঁদপুর-২ আসনে প্রার্থী হিসেবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। জোটের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সব মিলিয়ে, ডা. মোবিনের বাদ পড়া শুধু একটি মনোনয়ন ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি চাঁদপুর-২ আসনে জামায়াতের সাংগঠনিক মনোভাব ও জোট রাজনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ জোটের সিদ্ধান্ত মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপে দলটির নেতাকর্মীরা পাশে থাকবে বলেও জানা গেছে।