চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর ও দক্ষিণ) আসনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ’ জোটের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজীকে উদ্দেশ্য করে খোলা চিঠি লিখেছেন মতলব পৌর যুব জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক এ এম ইদ্রিস খান।
চিঠিতে তিনি নিজেকে চাঁদপুর-২ আসনের একজন সচেতন ভোটার ও জোটের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন। শনিবার (১৭ জানুয়ারি) চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চাউর হতে থাকে।
চিঠিতে জামায়াতের এই যুবনেতা বলেন, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে চাঁদপুর–২ (নির্বাচনি এলাকা নং ২৬১) আসনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে যে আলোচনা ও প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে, তা আপনার সদয় দৃষ্টি আকর্ষণ করার জন্যই এই খোলা চিঠি।
আপনি অবগত আছেন যে, এই আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. আবদুল মোবিন বিগত প্রায় দুই বছর ধরে নিরলসভাবে মাঠপর্যায়ে নির্বাচনি কার্যক্রম পরিচালনা করে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে ব্যাপক জনমত গড়ে তুলেছেন। মতলব উত্তর ও দক্ষিণ—উভয় উপজেলায় তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, ত্যাগী ভূমিকা এবং সাংগঠনিক শক্ত অবস্থান আজ আর অজানা নয়।
এমতাবস্থায়, জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট থেকে আপনাকে চাঁদপুর–২ আসনে মনোনয়ন দেওয়ার ফলে সাধারণ ভোটার, শুভানুধ্যায়ী এবং জোটের কর্মীদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে জোটের ঐক্য ও বিজয়ের সম্ভাবনার দৃষ্টিকোণ থেকে নতুন করে মূল্যায়ন করছেন।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি—রাজনীতির মূল লক্ষ্য ব্যক্তি নয়, বরং আদর্শ, জনআকাঙ্ক্ষা ও বৃহত্তর কল্যাণ। চাঁদপুর–২ আসনের বর্তমান বাস্তবতায়, যদি একাধিক প্রার্থী মাঠে সক্রিয় থাকেন, তবে তা জোটের ভোট বিভাজনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে, যা শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রকামী শক্তির প্রত্যাশিত বিজয়কে প্রশ্নের মুখে ফেলতে পারে।
এই প্রেক্ষাপটে, জোটের সার্বিক স্বার্থ, জনগণের প্রত্যাশা এবং একটি নিশ্চিত বিজয়ের লক্ষ্যে আপনি যদি উদারতা ও দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়ে ডা. আবদুল মোবিনের পক্ষে এই আসনটি ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন, তবে তা নিঃসন্দেহে ইতিহাসে একটি দায়িত্বশীল ও প্রশংসনীয় রাজনৈতিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আপনার এই মহৎ সিদ্ধান্ত চাঁদপুর–২ নয়, বরং পুরো জোটের জন্যই শক্তি, ঐক্য ও আস্থার বার্তা বহন করবে—এমনটাই আমরা প্রত্যাশা করি। আশা করি, আপনি বিষয়টি গভীরভাবে বিবেচনা করবেন এবং আল্লাহ তাআলার উপর ভরসা রেখে এমন একটি সিদ্ধান্ত নেবেন, যা সত্য, ন্যায় ও জনগণের বিজয় নিশ্চিত করবে।
এদিকে, চিঠিটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের পর স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি কোনো দলীয় সিদ্ধান্ত নয়, বরং একজন রাজনৈতিক কর্মীর ব্যক্তিগত অবস্থান ও মতামত বলেই সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।