চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রদলনেতা মো. ফয়সাল খন্দকার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন পোস্টে দলীয় অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামের সময় স্বস্তিতে থাকলেও বর্তমানে সংগঠনের ভেতরে অনুপ্রবেশ ও গ্রুপিং রাজনীতির কারণে অস্বস্তিতে রয়েছেন।
সম্প্রতি দেওয়া ওই পোস্টে ফয়সাল খন্দকার লেখেন, আমাদের অগণিত রাত নির্ঘুম কেটেছে। পুলিশ তুলে নিলেই নির্যাতন,ছাত্রলীগের অতর্কিত হামলা, অনিশ্চিত জীবনের প্রহর গুনতে গুনতে আল্লাহর দরবারে একটাই প্রার্থনা ছিল- স্বৈরাচার সরকারের বিদায় গনতন্ত্রের মুক্তি-রাজপথে ঝড়ানো রক্ত, ঘামের ও অসংখ্য সহযোদ্ধাদের জীবনের বিনিময়ে বাংলার মাটিতে পদার্পণ করেন গণতন্ত্রের নবযাত্রার অগ্রসেনানী, ১৮ কোটি মানুষের আবেগ, উচ্ছ্বাস ও ভালোবাসার জনাব তারেক রহমান। ইতিহাসের সেই মাহেন্দ্রক্ষণে তাঁকে একনজর সামনে থেকে দেখার সুপ্ত বাসনা আল্লাহ পূর্ণ করেন।
একাধিক রাজনৈতিক মামলায় আসামি হয়েছি। কিশোর বয়সে ২০১৪ সালে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা নির্বাচনের আগের রাতে তুলে নিয়ে অমানবিক ভাবে শারীরিক নির্যাতন করে পুলিশের কাছে তুলে দেয়। ২৮ অক্টোবর ২০২৩ বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেটে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলাম। ২৪ মার্চ ২০২৪ তারিখ রাতে মতলব দক্ষিন থানার ওসি রিপন বালা রাস্তা থেকে তুলে নিয়ে বেধম মারধর করে ও শারীরিক নির্যাতন চালায়। ১৪ জুলাই ২০২৪ মতলব দক্ষিণ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অনিক পাটোয়ারীসহ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পিছন থেকে আর্তকিত হামলা করে ডান পাজরের হাড় ভেঙ্গে দেয়।
নগ্ন গ্রুপিং এর কারণে বিগত কমিটিতে বঞ্চিত হয়েছি। আমার কর্মীরাও বিভিন্ন কমিটিতে পদ-পদবী পেয়েছে। তাতেও স্বস্তি ছিলো গনতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছিলাম বলে কিন্তু অস্বস্তিতে ভুগছি এখন গনতন্ত্র ফিরে পাওয়ার পর। ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার পর ছাত্রদলের নেতারা নিজেদের আন্ত-কোন্দলে নিজের গ্রুপ ভারি করার জন্য ছাত্রলীগের সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, মাদকাসক্তদের সাথে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড করছেন। এটা খুবই অস্বস্তি।
দেশ, জাতি, দল ও গনতন্ত্রের ক্রান্তিলগ্নে যাদের কে রাজপথে সহযোদ্ধা হিসেবে পাশে পেয়েছি তাদেরকে নিয়ে পথচলাই স্বস্তির শান্তির। আসুন আমরা সবাই মিলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজ, মাদকাসক্তদের বয়কট করি।
আন্দোলনের দিনগুলোতে অসংখ্য রাত নির্ঘুম কেটেছে। পুলিশি ধরপাকড়, নির্যাতন, হামলা ও অনিশ্চয়তার মধ্যেও তাদের একমাত্র প্রার্থনা ছিল স্বৈরাচারের অবসান ও গণতন্ত্রের মুক্তি। রাজপথে রক্ত ও ঘামের বিনিময়ে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে অংশ নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সংগ্রামের ইতিহাস তাদের কাছে গর্বের।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন ঘটনার উল্লেখ করে তিনি জানান, একাধিক মামলার আসামি হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে নির্বাচনের আগের রাতে তুলে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। এছাড়া ২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীতে দলীয় কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলেও উল্লেখ করেন। ২০২৪ সালের মার্চ ও জুলাইয়ে পৃথক দুই ঘটনায় থানা পুলিশ ও প্রতিপক্ষ সংগঠনের নেতাকর্মীদের হামলায় শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করেন তিনি।
ফয়সাল খন্দকার আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বহাল থাকায় সংগঠনের ভেতরে “নগ্ন গ্রুপিং” তৈরি হয়েছে। তার ভাষ্য মতে, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পরও এখন কিছু নেতা নিজেদের গ্রুপ শক্তিশালী করতে বিতর্কিত ব্যক্তিদের সঙ্গে নিয়ে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন, যা তৃণমূলের জন্য হতাশাজনক।
তিনি বলেন, “রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামেই স্বস্তি ছিলো, এখন মাদকাসক্ত আর ছাত্রলীগের অনুপ্রবেশে অস্বস্তিতে আছি! দীর্ঘ বছরের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে ত্যাগী যোগ্য ছাত্রদের দিয়ে নতুন কমিটি করা হলে ছাত্রলীগ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ, ধান্ধাবাজ, মাদকাসক্তরা অনুপ্রবেশের সাহস পাবে না। তৃনমূল ছাত্রদল সচ্চ ও শক্তিশালী হবে ইনশাআল্লাহ।”
এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ও জেলা ছাত্রদলের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি মতলব দক্ষিণ উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের কমিটি পুনর্গঠনের দাবি জানান তিনি।