প্রথমবারের মতো জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়েই সাফল্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে মতলব দক্ষিণের কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল।
২০২৬ সালের প্রকাশিত ফলাফলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির মোট ২০ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি অর্জন করেছে। এর মধ্যে ইংরেজি ভার্সনের ৪ জন ও বাংলা ভার্সনের ২ জন ট্যালেন্টপুলে এবং ইংরেজি ভার্সনের ৭ জন ও বাংলা ভার্সনের সমান সংখ্যক ৭ জন শিক্ষার্থী সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করেছে। অভিষেক অংশগ্রহণেই এমন অর্জন কেএফটি পরিবারে বইয়ে দিয়েছে আনন্দের জোয়ার।
এই সাফল্য উদযাপন ও কৃতি শিক্ষার্থীদের সম্মান জানাতে ফলাফল প্রকাশের পরপরই প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য সংবর্ধনা অনুষ্ঠান।
অনুষ্ঠানে অধ্যক্ষ জাকির হোসেন কামাল ট্যালেন্ট পুলে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের শতভাগ এবং সাধারণ গ্রেডে বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ৭৫ শতাংশ টিউশন ফি মওকুফের ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, “মেধা ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এবং ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফলের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের মালা ও উত্তরীয় পরিয়ে, ফুলের তোড়া দিয়ে এবং রঙ-বেরঙের পাপড়ি ছিটিয়ে অভিনন্দিত করা হয়। ড্রামসের তালে তালে করতালি ও তুমুল হর্ষধ্বনির মধ্য দিয়ে তাদের ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করানো হলে পুরো প্রাঙ্গণজুড়ে সৃষ্টি হয় এক অভাবনীয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের অর্জনকে মর্যাদা দেওয়া এবং অন্যদের অনুপ্রাণিত করতেই এ আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র ফলাফল ঘোষণা নয়, বরং সাফল্যকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার মাধ্যমে একটি ইতিবাচক শিক্ষাবান্ধব সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় কেএফটি কলেজিয়েট।
ফলাফল-পরবর্তী এই সংবর্ধনা আয়োজন শুধু আনন্দ প্রকাশ নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা ও পরিশ্রমের প্রতি প্রতিষ্ঠানটির দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন, এমনটাই মনে করছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।
এর আগে ২০২৫ সালের এসএসসি পরীক্ষায়ও প্রথমবার অংশ নিয়ে শতভাগ পাসের গৌরব অর্জন করে প্রতিষ্ঠানটি। ৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ১৮ জন এ প্লাস অর্জন করে, যা তাদের একাডেমিক সক্ষমতার আরেকটি দৃষ্টান্ত হয়ে আছে। ধারাবাহিক দুই পাবলিক পরীক্ষায় প্রথম অংশগ্রহণেই এমন ফলাফল প্রতিষ্ঠানটির মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতিফলন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অন্যদিকে, এবারের জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষায় মতলব জেবি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ৪ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৪ জন সাধারণ গ্রেডে এবং মতলব বালিকা বিদ্যালয় থেকে ৩ জন ট্যালেন্টপুলে ও ৮ জন সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি অর্জন করেছে। ফলে মতলবের শিক্ষা অঙ্গনে প্রতিযোগিতামূলক সাফল্যের ধারা আরও শক্তিশালী হয়েছে।
সামগ্রিকভাবে, প্রথম অংশগ্রহণেই ধারাবাহিক সাফল্য কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলকে স্থানীয় শিক্ষাঙ্গনে সম্ভাবনাময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।