চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার একটি বেসরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয় সাবিকুননাহার জুমা। গত বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ফলাফলে তার রোল নম্বরে একই বিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের দশম শ্রেণির এক ছাত্রের ফল পাওয়া গেছে।
পরিবারটির অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণে পরীক্ষা দিয়েও ওই ছাত্রীর ফল পাওয়া যায়নি।
সাবিকুননাহার জুমা উপজেলার উত্তর নাগদা গ্রামের ইসমাইল খানের মেয়ে। সে এবার উপজেলার আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়।
সাবিকুননাহারের বাবা ইসমাইল খান বলেন, সে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে ওই উচ্চবিদ্যালয় থেকে নবম শ্রেণিতে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেছিল। দশম শ্রেণির নির্বাচনী পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়ে চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফরমও পূরণ করে। কিন্তু পরীক্ষার আগে বিদ্যালয়টির সব পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেওয়া হলেও তাঁর মেয়ে পায়নি। পরে মৌখিক অনুমতি নিয়ে সাবিকুননাহারের প্রথম চারটি পরীক্ষা নেয় পরীক্ষাকেন্দ্রটির কর্তৃপক্ষ।
এরপর তাকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। প্রতিটি বিষয়ের উপস্থিতির খাতায় সাবিকুননাহারের স্বাক্ষর নেন কক্ষ পরিদর্শক। তার পরীক্ষাও মোটামুটি ভালো হয়েছে। কিন্তু প্রকাশিত ফলাফলে তার নাম আসেনি। রোল নম্বরটি দিয়ে ফলাফল খুঁজলে ফারদীন হোসিন নামে এক ছাত্রের ফল পাওয়া যায়। ফারদীন বর্তমানে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়ছে। আগামী বছর তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা।
ইসমাইল খানের অভিযোগ, ফলাফলের গ্রেড শিটে বাংলা, গণিত ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের একটি বিষয়সহ তিন বিষয়ে অকৃতকার্য দেখানো হয়। মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে গিয়েও একই ফল পাওয়া গেছে। বিষয়টি নিয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি নানা অজুহাত দেখিয়ে বিষয়টি এড়িয়ে যান। ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রভাবশালী লোক দিয়ে তাঁর ওপর চাপও প্রয়োগ করেন মাজহারুল। পরে বিষয়টি মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানালে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
এমন অবস্থায় ভেঙে পড়েছে ওই ছাত্রী। সাবিকুননাহার বলে, ‘পরীক্ষা দিলাম আমি। আর ফল এল অন্য ছাত্রের নামে, যে এবার এসএসসি পরীক্ষাই দেয়নি। আমি পাস করার মতো পরীক্ষা দিয়েছি। অথচ এখন আমার ফলই নেই। খুব হতাশা লাগছে।’
এ বিষয়ে আলহাজ তোফাজ্জল হোসেন ঢালী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল হক বলেন, কেন এমন ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য কুমিল্লা বোর্ডের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন তিনি। পরীক্ষার আগে কেন ওই ছাত্রীকে প্রবেশপত্র দেওয়া হয়নি? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিদ্যালয়টির অফিস সহকারীর ভুলে এমনটি হয়েছে। এ জন্য তাঁকে মৌখিকভাবে শাসিয়েছেন তিনি। ঘটনা ধামাচাপা দিতে সাবিকুননাহারের পরিবারের লোকজনকে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ সত্য নয়। এদিকে জাহাঙ্গীর আলম নামের ওই অফিস সহকারীর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটির সংযোগ বন্ধ পাওয়া যায়।
সমস্যার সমাধানে বোর্ড কর্তৃপক্ষ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় নিয়েছে বলে জানান উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গাউছুল আজম পাটোয়ারী। তিনি বলেন, ঘটনাটির তদন্ত চলছে। কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।