আজ শনিবার

৩০শে আগস্ট, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

১৫ই ভাদ্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৭ই রবিউল আউয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

সকাল ৬:২১

পুলিশ ক্যাম্পে নয়ন-পিয়াস গ্রুপের গোলাগুলি, বেলতলীতে অভিযান

444 Views

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় সদ্য চালু হওয়া পুলিশের অস্থায়ী ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে।

এই ঘটনার পর মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলী ঘাট সংলগ্ন এলাকায় চাঁদপুর জেলা পুলিশের বিশেষ সাড়াশি অভিযান চলছে বলে মতলব টুডে ডটকমকে বিশ্বস্ত সূত্রে জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৫ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে উপজেলার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত ক্যাম্প লক্ষ্য করে শতাধিক রাউন্ড গুলি চালায় নৌ ডাকাত নয়ন-পিয়াস গ্রুপের সদস্যরা। পুলিশের পাল্টা প্রতিরোধের মুখে টিকতে না পেরে হামলাকারীরা পরে পালিয়ে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৫টার পর ৫-৬টি ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে ক্যাম্প সংলগ্ন নদীতে মহড়া শুরু করে সন্ত্রাসীরা। এরপর তারা ক্যাম্পের কাছে এসে প্রথমে ৪-৫টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় এবং ট্রলার থেকে পুলিশের ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। আত্মরক্ষায় পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে।

প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলা এই সংঘর্ষে ডাকাতদের পক্ষ থেকে প্রায় ১০০ রাউন্ড এবং পুলিশের পক্ষ থেকে প্রায় ২০-২৪ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। বিস্ফোরিত হয় ৪-৫টি ককটেলও। পুলিশের প্রবল প্রতিরোধের মুখে বিকেল পৌনে ৬টার দিকে ট্রলার নিয়ে মতলবের দিকে পালিয়ে যায় হামলাকারীরা।

গজারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার আলম আজাদ রাত ৮টার দিকে বলেন, পিয়াসের নেতৃত্বে ৫-৬টি ট্রলারযোগে অন্তত ৪০-৫০ জন সন্ত্রাসী পুলিশ ক্যাম্প লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। তারা ককটেল বিস্ফোরণও ঘটায়। আমরা সঙ্গে সঙ্গেই পজিশন নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলি এবং আত্মরক্ষার্থে ২৪ রাউন্ড গুলি চালাই। সন্ত্রাসীরা এখন নদীর বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছে, তবে পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় এখনো কাউকে আটক করা যায়নি এবং পুলিশের কোনো সদস্যও আহত হননি।

উল্লেখ্য, গজারিয়া উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকা গুয়াগাছিয়ায় বেশ কিছু নৌ ডাকাত দল সক্রিয় রয়েছে। অবৈধ বালুমহাল পরিচালনা, নৌযানে চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি একাধিক সহিংস ঘটনার জন্ম দেয় ডাকাত নয়ন-পিয়াস ও লালু বাহিনী। তাদের দ্বন্দ্বে খুন হন ডাকাত সর্দার বাবলা, স্যুটার মান্নান এবং হৃদয়।

এই অপতৎপরতা দমন এবং এলাকায় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে ২২ আগস্ট জামালপুর গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করে প্রশাসন। ক্যাম্প স্থাপনের শুরু থেকেই বিরোধিতা করে আসছিল নৌ ডাকাত গ্রুপগুলো। সেই ধারাবাহিকতায় এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করছে পুলিশ।

Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!