মুন্সীগঞ্জের মেঘনায় নৌ পুলিশের ধাওয়া খেয়ে চাঁদপুরের মতলব উত্তরে পালিয়ে আত্মগোপনে আছে এমন তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ।
জানা গেছে, সোমবার (২৫ আগস্ট) গভীর রাত থেকে মতলব উত্তরের বেলতলী লঞ্চঘাট, বেদেপল্লী, আশ্রয়ণ প্রকল্প, সওদাগর বাড়ি এবং চিতাখোলা এলাকায় প্রতিটি বসতবাড়ি ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি চালানো হয়। তবে কোথাও গুলি চালিয়ে পালিয়ে আসা দুর্ধর্ষ নৌ-ডাকাত দলের সদস্যদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।
মতলব সার্কেলের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার খায়রুল কবির বলেন, ‘নৌপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি এবং বালু দস্যুর সঙ্গে জড়িতদের আটক করতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালায়। পাশাপাশি মুন্সীগঞ্জ থেকে নৌপথে পালিয়ে আসা সশস্ত্র নৌ-ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করাই ছিল মূল লক্ষ্য। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তারা মতলব উত্তরে আশ্রয় নেয়নি, অন্যত্র অবস্থান নিয়েছে।’
এ অভিযানে জেলা ডিবির ওসি মজিবুর রহমান, মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ রবিউল হক, পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রদীপ মণ্ডলসহ প্রায় অর্ধশত পুলিশ সদস্য অংশ নেন।
এর আগে, সোমবার সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ার গুয়াগাছিয়া ইউনিয়নের জামালপুর গ্রামসংলগ্ন মেঘনা নদীতে পুলিশের সঙ্গে নৌ-ডাকাত দলের শতাধিক রাউন্ড গুলি বিনিময় হয়। পরে পুলিশের ধাওয়া খেয়ে তারা চাঁদপুরের মতলব উত্তরের দিকে পালিয়ে যায়।
চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব বলেন, ‘নৌপথে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও অবৈধ বালু উত্তোলনে জড়িত সিন্ডিকেট ধরতে মঙ্গলবার থেকে জেলার সব নৌপথে পুলিশের একাধিক দল নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও নজরদারি চালাবে।’
এ বিষয়ে চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোহসীন উদ্দিন বলেন, ‘শুধু মতলব উত্তর নয়, গোটা জেলার নৌ সীমানায় কোনো ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বরদাস্ত করা হবে না।’