আজ রবিবার

২৫শে জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১১ই মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

ভোর ৫:৩৭

মতলবে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকার ‘ঝুলন্ত সেতু’র অনুমোদন

16 Views

একনেকে অনুমোদন পেয়েছে চাঁদপুর ও মুন্সীগঞ্জ জেলাকে সংযোগ স্থাপনকারী বহুল প্রতীক্ষিত ঝুলন্ত সেতু। মেঘনা ও ধনাগোদা নদীর উপর নির্মিত হবে মতলববাসীর লালিত স্বপ্নের এই ব্রিজটি।

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা ও মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার মধ্যে মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতুটি সরাসরি সড়ক সংযোগ সৃষ্টি করবে।

মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মতলব উত্তর ও দক্ষিণ উপজেলার মধ্যে সংযোগ সৃষ্টিকারী ‘মতলব সেতু’ বাস্তবায়নের সময় থেকেই ঢাকার সাথে চাঁদপুরের সড়ক দূরত্ব আরো কমিয়ে আনা এবং সহজ করার লক্ষ্যে সাবেক মন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী (মায়া) বীর বিক্রম এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম এবং স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব অ্যাড. নুরুল আমিন রুহুল এই সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণে উদ্যোগ ও ভূমিকা রাখেন।

মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা অনুষ্ঠিত হয়। এটিই হতে পারে বর্তমান সরকারের মেয়াদে শেষ একনেক সভা। সভায় চাঁদপুরের মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর একটি ঝুলন্ত সেতু নির্মাণের প্রস্তাব উত্থাপনের পর তা অনুমোদন লাভ করে। সাধারণত প্রকল্পের মেয়াদ একনেকে পাস করার আগে থেকে শুরু হয়। তবে এই প্রকল্প পাস হয়ে থাকবে, পরে কাজ শুরু হবে। পুরোপুরি দেশীয় অর্থে সড়ক ও জনপথ বিভাগ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।

সেতু মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, চাঁদপুরে ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। প্রকল্প চলবে ২০২৪ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত। সেতুর দৈর্ঘ্য ১.৮৫ কিলোমিটার এবং দুই প্রান্তে ৭.৫১ কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হবে যার মধ্যে গজারিয়া অংশে ৫.৪৬ কিলোমিটার এবং মতলব উত্তরে ২.০৫ কিলোমিটার।

ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ঘ–১ অংশের সঙ্গে যুক্ত হবে ২.১ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্টারচেঞ্জ। পাশাপাশি নদী শাসন করা হবে ২.২ কিলোমিটার, নির্মিত হবে একটি টোল প্লাজা ও দুটি ওজন স্টেশন। সেতুর ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স রাখা হয়েছে ২৫ মিটার, যাতে ভবিষ্যতের নৌযান চলাচলে কোনো বাধা না সৃষ্টি হয়।

বিশ্বমানের প্রকৌশল অনুসরণ করে এ সেতুর নকশায় নদীর মূল প্রবাহে একটিও পিলার না রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে নদীর নাব্যতা, প্রবাহমানতা ও পরিবেশ রক্ষা পাবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের মোট জিডিপি প্রবৃদ্ধি ০.২৩ শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

সেতুটি নির্মিত হলে চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ভোলা এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের জন্য রাজধানীতে যাতায়াত হবে আগের চেয়ে অনেক দ্রুত ও স্বল্প ব্যয়ে। ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের ওপর চাপ কমবে। তৈরি হবে বিকল্প মহাসড়ক রুট। শিল্পাঞ্চল, পর্যটন, বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে পুরো অঞ্চলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সেতু নির্মাণের খবরে এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। জমিজমার দামও দ্রুত বাড়ছে।

Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ