ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার বলদা খাল থেকে মতলব সড়কের ধনাগোদা নদীর উপর নির্মিত শ্রীরায়েরচর ব্রিজে যানবাহন উঠতে নামতেই যত দুর্ভোগ।
সেতুর দাউদকান্দির অংশে সড়ক থেকে ব্রিজের উচ্চতা বেশি, সেতু মুখে সড়ক সংকুচিত, অটোরিকশার অবৈধ পাকিং ও এবরো থেবড়ো হওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এই সড়কে চলাচলরত কয়েক জেলার সাধারণ যাত্রীদের।
ব্রিজের এপারে কুমিল্লার দাউদকান্দি ব্রিজ পেরুলেই চাঁদপুরের মতলব। দুই জেলার সংযোগস্থল সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন চাঁদপুর, লক্ষীপুর ও কুমিল্লা জেলার হাজার হাজার যাত্রী ও পণ্যবাহী গাড়ী রাজধানী ঢাকা ও কুমিল্লা যাতায়াত করে। অতিগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি বর্তমানে বেহাল অবস্থায় রয়েছে।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, সড়কটির নছরুদ্দী থেকে গোয়ালমারী পর্যন্ত চরম বেহাল পরিস্থিতি কাঁচা সড়কে ধুলা-বালি উড়ছে, বিভিন্ন স্থানে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, এবরো- থেবড়ো, উঁচুনিচু সড়কে গাড়ী আটকে যাওয়াসহ অহরহ অটোরিকশা ও সিএনজি উল্টিয়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। কয়করাপুর স্টিলের সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে যানবাহন চলছে। বেশ কয়েকটি ব্রিজের এ্যাপরোচে মাটি সরে গেছে, নির্মাণাধীন বেশ কয়েকটি সেতুর রড মরিচা ধরেছে।
এদিকে সড়কটি দিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে এসে শ্রীরায়েরচর সেতু মুখে আসতেই ঝুঁকিতে পড়তে হচ্ছে যাত্রী ও চালকদের। জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বলদাখাল থেকে মতলব সড়কটির দাউদকান্দির শ্রীরায়েরচর পর্যন্ত ১০কিলোমিটার অংশ। তারপর সেতু। আর সেতুতে উঠতে নামতেই চরম বিড়ম্বনায় পরতে হচ্ছে চালকদের। এমনটাই জানালেন তারা।
এই সড়কে নিয়মিত প্রাইভেটকার চালক চাঁদপুর মতলবের সুজাতপুরের মো: রাজিব বলেন, আমি ঢাকা থেকে মতলব উত্তর উপজেলায় নিয়মিত যাতায়াত করি। মাসে কয়েকবার আসা যাওয়া হয়। কিন্তু এই সড়কের বিভিন্নস্থানে সমস্যার কারনে গাড়ীর ক্ষতি হয়। ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়।
অ্যাম্বুলেন্স চালক আ: মতিন বলেন ২০ বছর যাবত এই রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্স চালাই। এই রাস্তার দুর্ভোগ যেন শেষই হচ্ছে না। ব্রিজের গোড়া অতিরিক্ত নিচু হওয়ায় গাড়ি ব্রেক করলে থামানো যায় না পিছলিয়ে যায় এবং গাড়ি অনেক জোরে ঝুঁকি খায়। অ্যাম্বুলেন্সে থাকা রোগীরা আরো বেশি অসুস্থ হয়ে যায় বিশেষ করে প্রেগন্যান্ট রোগীর মারাত্মক সমস্যা হয়।ব্রীজের পাশেই খালিশা বাজার কমিটির সেক্রেটারি মোঃ খলিলুর রহমান বলেন সংকীর্ণ ব্রিজ মুখে রাস্তার দুইপাশে অটোরিকশা ও সিএনজি দাঁড়িয়ে থাকার কারণে প্রতিনিয়ত এই স্থানে যানজটের সৃষ্টি হয়। বৃষ্টি হলেই গর্ত হয়ে থাকা জায়গায় জমে যায় পানি। যা দুর্ভোগের পরিমাণ দ্বিগুণ বাড়িয়ে দেয়।ব্রিজের গোড়ার সংস্করণ দ্রুত প্রয়োজন।
সড়ক ও জনপদ বিভাগের কুমিল্লা জেলার উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন বলদা খাল থেকে খালিশা বাজার (শ্রীরায়েরচর ব্রীজের গোড়া) রাস্তার কাজ অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। শীঘ্রই অনুমোদন হয়ে আসবে। অনুমোদন পেলেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে রাস্তার কাজটি শুরু করা হবে। তিনি দৈনিক ইনকিলাব কে আরো বলেন ৪ মার্চ শ্রীরায়েরচর ব্রিজ এলাকা পরিদর্শন করে ব্রিজের এ্যাপরোচে অস্থায়ীভাবে পিচ দিয়ে কার্পেটিং করে আপাতত চলাচলের ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী, খন্দকার গোলাম মোস্তফা জানান, ভুমি অধিকরন সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান প্রক্রিয়াধীন। দ্রুতই সমস্যা সমাধান করে রাস্তা নির্মাণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।এই মাস না সে মাস, এবছর না ওই বছর অতিবাহিত হতে চলেছে বছরের পর বছর। এই আশ্বাসের দিন শেষ হবে কবে জানতে চায় এলাকাবাসী। । দ্রুত কাজের বাস্তবায়ন দেখতে চায় এলাকাবাসী।