চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার রাড়ীকান্দি দারুচ্ছুন্নাত দাখিল মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীদের যৌন হয়রানির অভিযোগে এক শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) বেলা ১২টার দিকে অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাহমুদা কুলসুম মনি সরেজমিনে এসে এই সিদ্ধান্ত নেন।
তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষস ও স্থানীয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পেশ ইমাম সহকারী মৌলভী মো. মামুন মিয়াজীকে সাময়িক বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক রেজুলেশনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত কার্যকর করে।
মাদ্রাসার একাধিক শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, মো. মামুন মিয়া প্রায় দুই-তিন বছর আগে মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই তাদের সঙ্গে বিভিন্নভাবে যৌন হয়রানি করে আসছিলেন। অনেক সময় তিনি শিক্ষার্থীদের ওপর শারীরিক নির্যাতনও করতেন।
তারা আরও জানায়, সবসময় তার ভয়ে আতঙ্কে থাকতে হতো এবং বিষয়টি একাধিকবার অন্য শিক্ষকদের কাছে জানালেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে বাধ্য হয়ে তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ জানায়। ইউএনও সরেজমিনে এসে অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করায় শিক্ষার্থীরা স্বস্তি প্রকাশ করে।
মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মো. ইসমাইল হোসেন জানান, এর আগেও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছিল। কিন্তু অভিযোগ অব্যাহত থাকায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এদিকে এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাদের দাবি, সন্তানদের নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে এমন প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত ও এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কঠোর নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।