প্রকাশের তারিখঃ ২৮ নভেম্বর, ২০২৫ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৫ জানুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৯ পূর্বাহ্ণ

মতলবে দুই কাঠের সেতুতে ২০ গ্রামের স্বস্তি

প্রতিবেদকঃ মাহফুজুর রহমান

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার মতলব পৌরসভায় ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর দুটি কাঠের সেতু নির্মিত হওয়ায় বদলে গেছে অন্তত ২০ গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা। দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কাটিয়ে স্বস্তির হাসি ফুটেছে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মুখে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও অসুস্থ রোগী পরিবহনে এ সেতুদুটি যেন বড় আশীর্বাদ হয়ে এসেছে।

সরেজমিন দেখা যায়, মতলব পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেনের উদ্যোগে জনদুর্ভোগ লাঘব ও চলাচলের সুবিধা বাড়াতে ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর দুটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। সেতুগুলো নির্মাণের পর থেকেই স্থানীয়দের মাঝে ইউএনও’র প্রতি কৃতজ্ঞতা ও প্রশংসা ছড়িয়ে পড়েছে।

এ সেতুগুলোর ফলে কলাদি, নবকলস, চরমুকুন্দী, শীলমন্দী, চরনিলক্ষ্মী, উদ্দমদী, বারোঠালিয়া, বরদিয়া, ঢাকিরগাঁও, শোভনকর্দি, বোয়ালিয়া ও দিঘলদীসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষের চলাচলে বিপ্লব ঘটেছে। দীর্ঘদিনের নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পেরোনোর ভোগান্তি থেকে অবশেষে মুক্তি মিলেছে।

পৌরসভার ৩ ও ৪ নম্বর ওয়ার্ডের যোগাযোগ সুবিধা বাড়াতে নিউ হোস্টেল জামে মসজিদের পাশ ঘেঁষে ধনাগোদা শাখা নদীর ওপর একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়। একই সময়ে উপজেলার বারোঠালিয়া এলাকায় নদীর ওপর আরেকটি সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, যা উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বহুদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করবে।

চরমুকুন্দী গ্রামের বাসিন্দা মো. সেলিম হোসেন বলেন, “নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলতে গিয়ে সবসময় ভয়ে থাকতাম। কাঠের সেতুটি হওয়ায় এখন আমাদের পথচলা নিরাপদ হয়েছে। ইউএনও স্যারকে আমরা ধন্যবাদ জানাই।”

চরনিলক্ষ্মী গ্রামের শিক্ষার্থীর অভিভাবক মুরাদ হোসেন জানান, “আগে বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকতে হতো। এখন আর সেই ভয়ের দিন নেই।”

স্কুলশিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, “আগে নদীতে মানুষ পড়ে যাওয়ার ঘটনা ছিল নিত্যদিনের। সেতুটি হওয়ায় ঝুঁকি কমেছে, যাতায়াত সহজ হয়েছে।”

বরদিয়া গ্রামের সুমন মিয়া বলেন, “বর্ষায় আমাদের দুর্ভোগ ছিল অনেক। কাঠের সেতুতে সেই কষ্ট কিছুটা কমেছে। তবে ভবিষ্যতে একটি স্থায়ী পাকা সেতুর দাবি জানাচ্ছি।”

মতলব দক্ষিণ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন বলেন, “জনদুর্ভোগ লাগব ও চলাচল সহজ করার লক্ষ্যে আমার ক্ষুদ্র প্রয়াস। এসব সেতু জনগণের কষ্ট কমাবে। ভবিষ্যতেও উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।”
সেতুগুলো নির্মাণের পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় নতুন উদ্যম ও স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা—এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে পাকা সেতু নির্মাণসহ আরও উন্নয়নমূলক কাজের ধারাবাহিকতা জোরদার করবে।