
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচরে শিক্ষা ও ধর্মীয় পরিবেশ আজ চরম স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে। ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়, ছেংগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের একেবারে সামনে গড়ে উঠেছে বিশাল ময়লার ভাগাড়। মূল ফটকের পাশের ডোবায় জমে থাকা পচা আবর্জনা থেকে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ ও জীবাণু, যা প্রতিদিনের যাতায়াতে মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মুসল্লি ও পথচারীদের জন্য।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে আসা শিশু শিক্ষার্থীদের ময়লার স্তূপের পাশ দিয়েই প্রবেশ করতে হচ্ছে। পলিথিন, নোংরা পানি, পচা আবর্জনা ও মশা-মাছির ভিড়ে এলাকাটি কার্যত এক অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পরিণত হয়েছে। ময়লার স্তূপে গবাদিপশুর খাবার খোঁজার দৃশ্য পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলেছে।
স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দুর্গন্ধের কারণে শিশুদের মধ্যে বমিভাব, মাথাব্যথা ও চর্মরোগের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে ডোবায় জমে থাকা নোংরা পানি থেকে ডেঙ্গু ও অন্যান্য সংক্রামক রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা বাড়ে বলে তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ছেংগারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জুনায়েদ বলেন, “বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার ভাগাড় থাকায় শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান না হলে স্বাভাবিক পাঠদান ব্যাহত হবে।”
ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বেনজির আহমেদ মুন্সি জানান, প্রতিদিন শিক্ষার্থীরা জীবাণুর ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে আসছে এবং বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল আলম বলেন, বিদ্যালয়ের আশপাশের পরিবেশ শিক্ষাবান্ধব হওয়া অত্যন্ত জরুরি। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিদ্যালয় ও মসজিদের সামনে ময়লার ভাগাড় কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। দ্রুত পৌরসভা ও পরিচ্ছন্নতা বিভাগের মাধ্যমে ময়লা অপসারণ ও স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, তাৎক্ষণিক পরিষ্কারের পাশাপাশি নির্দিষ্ট ডাম্পিং জোন ও নিয়মিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর এমন জনদুর্ভোগ তৈরি না হয়।
Sign in to your account