
ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকোই ভরসা শত শত শিক্ষার্থীর
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় অপরিকল্পিত নৌযান ঘাঁটি, অবৈধ জাগ ও দখলদারিত্বে ক্রমেই মৃতপ্রায় হয়ে উঠছে ধনাগোদা নদী। শ্রীরায়েরচর ব্রিজ থেকে কালীর বাজার পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদীপথ কচুরিপানার জঞ্জাল ও অবৈধ স্থাপনায় কার্যত বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে অচল হয়ে গেছে অন্তত আটটি লঞ্চঘাট ও স্বাভাবিক নৌকা চলাচল। ফলে নদীপথে থমকে পড়েছে মতলব উত্তর ও দক্ষিণসহ গজারিয়া ও দাউদকান্দি উপজেলার নিয়মিত যোগাযোগ ব্যবস্থা।
দীর্ঘসময় ধরে ধনাগোদা নদীর কালীর বাজার খেয়াঘাট ছিল মতলব উত্তর উপজেলার ধনাগোদা তালতলী উচ্চ বিদ্যালয় এবং দাউদকান্দি উপজেলার মোল্লাকান্দি লালমিয়া পাইলট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের প্রধান যাতায়াত পথ। তবে নদীর নাব্য সংকট ও নৌকা চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ঘাটটি এখন কার্যত অচল। বিকল্প হিসেবে নদীর ওপর অস্থায়ীভাবে তৈরি করা হয়েছে একটি বাঁশের সাঁকো, যা দিয়েই প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছে দুই উপজেলার শত শত শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
শিক্ষার্থীরা জানায়, নৌকা না থাকায় প্রতিদিন স্কুলে যাওয়া তাদের জন্য কষ্টকর হয়ে উঠেছে। বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়েই বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হতে হয়। অনেক সময় সাঁকো থেকে পড়ে বই-খাতা পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন আতঙ্কের মধ্যেই চলতে হচ্ছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর দুই পাড়ে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা নৌযান ঘাঁটি, জাগ বসানো এবং দখল-দূষণের কারণে ধনাগোদা নদীর জোয়ার-ভাটার স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কচুরিপানার আগ্রাসন ও নিয়মিত খননের অভাব। ফলে নদীটি দ্রুত ভরাট হয়ে নাব্য হারাচ্ছে এবং দিন দিন মৃত নদীতে পরিণত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়নুল আবেদীন বলেন, “এই নদী একসময় আমাদের জীবনরেখা ছিল। এখন পুরো নদী কচুরিপানার জঙ্গলে পরিণত হয়েছে। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আজ শিক্ষার্থীদের ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে নদী পার হতে হতো না।”
সচেতন মহলের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া হলে ধনাগোদা নদীও দেশের অন্যান্য মৃত নদীর তালিকায় যুক্ত হবে। তাদের মতে, নদী বাঁচলে জনপদ বাঁচবে।অন্যথায় যোগাযোগ, শিক্ষা ও জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় নেমে আসবে।
এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। কচুরিপানা অপসারণ, অবৈধ জাগ উচ্ছেদ এবং নদীর নাব্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
Sign in to your account