প্রকাশের তারিখঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪০ পূর্বাহ্ণ

মতলব উত্তরে শাকিলা হত্যার রহস্য উদঘাটন, আসামি গ্রেপ্তার

প্রতিবেদকঃ মাহফুজুর রহমান

চাঁদপুরের মতলব উত্তরের শিবপুর বেড়িবাঁধ থেকে উদ্ধার হওয়া তরুণী শাকিলা আক্তার হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। নিহত শাকিলা ষাটনল ইউনিয়নের রঙ্গুখারকান্দি গ্রামের সাত্তার বেপারীর মেয়ে। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জের একটি ডায়াগনস্টিকে নার্স হিসেবে কর্মরত ছিলো শাকিলা।

টানা অভিযানের পর হত্যা মামলার প্রধান আসামি বিল্লাল হোসেনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিল্লাল শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থানার গরীবের চর গ্রামের হাবিবুর রহমানের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় মতলব উত্তর থানা প্রাঙ্গণে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (মতলব সার্কেল) জাবির হুসনাইন সানীব বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।

একটি ‘ক্লু-লেস’ মরদেহ থেকে শুরু, শেষ পর্যন্ত উন্মোচিত হলো সম্পর্ক, বিরোধ আর লাশ গুমের ভয়ংকর চিত্র। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টার দিকে শিবপুর বেড়িবাঁধ এলাকায় তরুণীর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখলে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং পরিচয় শনাক্তের পর নিহতের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এরপরই শুরু হয় রহস্য। তদন্তে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ছেংগারচর পালস ডায়াগনস্টিকে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে রেন্ট-এ-কার চালক বিল্লালের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে শাকিলা। গত চার মাস ধরে তারা রাজধানীর ডেমরা এলাকায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করলেও তাদের ছিল না কোনো রেজিস্ট্রি বিয়ে। অন্যদিকে বিয়ের বৈধতা ও প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার দাবিতে তাদের মাঝে তৈরি হয় তীব্র বিরোধ।

ব্রিফিংয়ে আরও জানানো হয়, গত ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে সেই বিরোধের জেরেই ভাড়া বাসায় আত্মহত্যা করেন শাকিলা। আর এরপরই ঘটানো হয় নাটকীয় মোড়। ঘটনাকে ভিন্নখাতে নিতে মরদেহ গাড়িতে করে এনে ফেলে রাখা হয় নন্দলালপুর শিবপুর বেড়িবাঁধের উপরে।

আর টানা তিন দিনের অভিযানের পর শরীয়তপুর-চাঁদপুর সীমান্তবর্তী বাহেরচরের দুর্গম মাঝেরচর এলাকা থেকে মূল আসামী বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এদিকে ঘটনার আরও বিস্তারিত তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এর আগে থানা গেটের সামনে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানিয়েছেন স্বজনসহ এলাকাবাসী। তারা বলেন, শাকিলার অনেক স্বপ্ন ছিলো কিন্তু সব স্বপ্ন শেষ করে দিলো বিল্লাল। আর কোন মায়ের বুক যাতে খালি না হয়, আর কোন বোনের বন্ধন যাতে না ভাঙে। এই ঘটনার উপযুক্ত বিচারের দৃষ্টান্ত দেখতে চান তারা।