প্রকাশের তারিখঃ ১৮ মার্চ, ২০২৬ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:৪৫ পূর্বাহ্ণ

অভাবের ঈদ: মতলবের অসংখ্য শিশুদের মুখে নেই ঈদের হাসি

প্রতিবেদকঃ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঈদ মানেই নতুন জামা-কাপড়, আনন্দ আর উৎসবের রঙিন ছোঁয়া। কিন্তু সেই আনন্দ ছুঁয়ে যায় না চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার হাজারো শিশু-কিশোরকে। দারিদ্র্য আর অভাব-অনটনের কারণে তাদের কাছে ঈদ যেন আর দশটা দিনের মতোই নিস্তেজ।

“ঈদে নতুন জামা-কাপড় না পেলে সারাদিন মন খারাপ থাকে। জামা না পেয়ে কাঁদলেও বাবা কিছুই করতে পারে না” কথাগুলো বলছিল একলাছপুর আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১০ বছর বয়সী শিশু মোবারাক উল্যা। তার চোখেমুখে স্পষ্ট হতাশার ছাপ।

আর মাত্র কয়েক দিন পরই পবিত্র ঈদুল ফিতর। চারদিকে উৎসবের আমেজ থাকলেও মতলব উত্তর উপজেলার আশ্রয়ণ প্রকল্প ও বেড়িবাঁধে বসবাস করা পরিবারগুলোর জীবনে নেই সেই উৎসবের ছোঁয়া। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এখানে প্রায় দুই হাজারের বেশি শিশু-কিশোর এবারও নতুন পোশাকের স্বপ্ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

উপজেলার একলাছপুর, বেলতলী, দুর্গাপুর, চরউমেদ ও ছোট চরকালিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পের বেশিরভাগ বাসিন্দাই নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন। জীবিকার প্রধান মাধ্যম মাছ ধরা হলেও বর্তমানে মেঘনা নদীতে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা থাকায় তাদের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এসব প্রকল্পের পরিবারগুলো চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষের কাছে ঈদের নতুন জামা-কাপড়, পোলাও-কোরমা বা সেমাই যেন বিলাসিতা মাত্র। অনেক পরিবারই সন্তানদের জন্য নতুন পোশাক কিনতে পারেনি।
আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা মজিদা বেগম বলেন, “স্বামী মাছ ধরে যা আয় করে, তা দিয়েই কোনো রকমে পাঁচ সন্তান নিয়ে চলি। এখন মাছ ধরা বন্ধ—খাওয়াবো, নাকি জামা কিনে দেবো?”

১৩ বছর বয়সী ইদ্রিস জানায়, কোনো ঈদেই সে নতুন জামা পায় না। বাস্তবতার কাছে তার ইচ্ছাগুলো বারবার হার মানে। একইভাবে ৯ বছর বয়সী নার্গিস আক্তারও জানায়, এবারের ঈদেও নতুন জামা না পেয়ে সে ভীষণ কষ্টে রয়েছে।

একলাছপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের অধিকাংশ পরিবারই জেলে। মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় তাদের দুর্ভোগ বেড়ে যায়। সরকারিভাবে কিছু সহায়তা দেওয়া হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। তিনি সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

এদিকে মতলব উত্তর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার দাস জানান, উপজেলায় প্রায় ৯ হাজার ১০০ জন জেলে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে তাদের প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

তবে বাস্তবতা বলছে, এই সহায়তা দিয়ে পরিবারের নিত্যপ্রয়োজন মেটানোই কঠিন, ঈদের আনন্দ তো অনেক দূরের বিষয়। তাই এবারের ঈদেও নতুন জামা-কাপড়ের অপেক্ষায় থাকা এসব শিশুর স্বপ্ন হয়তো অধরাই থেকে যাবে।