প্রকাশের তারিখঃ ৯ এপ্রিল, ২০২৬ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ১০ এপ্রিল, ২০২৬, ২:৩৬ পূর্বাহ্ণ

মতলব উত্তরে আশ্রয়ণের ১৩০ পরিবারের মানবেতর জীবন

প্রতিবেদকঃ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর ইউনিয়নের এখলাছপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাসকারী পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রায় দুই দশক আগে গৃহহীন মানুষের মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে নির্মিত এই প্রকল্প এখন নিজেই পরিণত হয়েছে দুর্ভোগের প্রতীকে।

২০০৫ সালে তৎকালীন সরকারের সময়ে সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে ৫০টি এবং ১৯৯৮-৯৯ অর্থবছরে আরও ৮০টি পরিবারের জন্য নির্মিত হয় এ আশ্রয়ণ প্রকল্প। উদ্দেশ্য ছিল ছিন্নমূল মানুষের পুনর্বাসন। কিন্তু নির্মাণের পর থেকে দীর্ঘদিন কোনো সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণ না হওয়ায় প্রকল্পটির অবকাঠামো এখন প্রায় ধ্বংসপ্রায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ১৩০ পরিবারের জন্য নির্মিত অধিকাংশ ঘরের টিনের চালা ফুটো, বেড়া ভাঙা, দরজা-জানালা নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে পলিথিন টাঙিয়ে কিংবা পুরনো কাপড় দিয়ে বেড়া ঢেকে কোনোভাবে বসবাস করছে। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ে, ফলে রাতের ঘুম হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।

বাসিন্দাদের অভিযোগ, নষ্ট হয়ে যাওয়া টিউবওয়েল কিংবা টয়লেট মেরামতে কোনো সরকারি সহায়তা মেলে না; নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী খরচ করে তা ঠিক করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে পানি, কাদা ও ঝড়বৃষ্টির মধ্যে পরিবার-পরিজন ও গৃহপালিত পশু নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

এছাড়া, অধিকাংশ বাসিন্দাই দিনমজুর বা অনিয়মিত আয়ের ওপর নির্ভরশীল। স্থায়ী কোনো কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় দারিদ্র্য তাদের নিত্যসঙ্গী। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, তারা বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্ডের মতো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকেও বঞ্চিত।

আশ্রয়ণের বাসিন্দা রামপ্রসাদ বলেন, “নিজস্ব কোনো জায়গা-জমি না থাকায় এখানে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু ঘরগুলোর এমন অবস্থা যে, থাকা এখন কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

আরেক বাসিন্দা সোলেমান জানান, “২০ বছর আগে মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছিল, এরপর আর কেউ খোঁজ নেয়নি আমাদের।”

হারুন বাদশা বলেন, “ভাঙাচোরা ঘরের কারণে অনেকেই এখানে থাকতে না পেরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে চলে গেছে।”

এ বিষয়ে মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, “সরকারি বরাদ্দ না থাকায় এখনো সংস্কার কাজ শুরু করা যায়নি। বরাদ্দ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গৃহহীন মানুষের নিরাপদ আবাসনের স্বপ্ন নিয়ে গড়ে ওঠা এই আশ্রয়ণ প্রকল্পটি এখন জরুরি সংস্কার ও পুনর্বাসন উদ্যোগের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত পদক্ষেপই পারে এসব মানুষের জীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে।