
চাঁদপুরের মতলব পৌরসভা সদরে দিনে-দুপুরে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে শিক্ষক ও চাকরিজীবীদের ফাঁকা বাসা টার্গেট করে সংঘবদ্ধ চোরচক্র একের পর এক দুঃসাহসী অভিযান চালাচ্ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) দিনের বেলায় পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৫টি বাসায় তালা ভেঙে নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট করে চোরের দল। ঘটনাগুলোর ধরণ ও সময়কাল বিশ্লেষণ করে স্থানীয়দের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে এসব চুরি সংঘটিত করছে।
সরেজমিনে জানা যায়, পৌরসভার পূর্ব-দক্ষিণ কলাদী মুসলিমপাড়া এলাকায় আলু ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীরের ৬ তলা ভবনের ৩য় তলায় ভাড়াটিয়া আরিফের বাসায় চুরি হয়।
আরিফ জানান, তার স্ত্রী সকালে স্কুলে যান এবং সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে বাসা তালাবদ্ধ রেখে তিনি নিজেও কাজে বের হন। দুপুরে ফিরে দরজা খোলা ও তালা ভাঙা অবস্থায় দেখতে পান। ঘরে ঢুকে দেখেন আলমারি ও স্যুটকেস ভাঙা, সবকিছু এলোমেলো। তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ২–২.৫ ভরি স্বর্ণ ও ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে চোরেরা।
একই দিনে মতলব বাজারের জামান প্লাজার সামনে একটি ভবনের ৪র্থ তলায় প্রবাসী দীপু প্রধানের বাসাতেও চুরি হয়। তার স্ত্রী রিচি আক্তার জানান, ছেলেকে মাদ্রাসায় পাঠিয়ে তিনি চিকিৎসার জন্য বাইরে যান। পরে বাসায় ফিরে দেখেন তালা ভেঙে আলমারি থেকে প্রায় ৮৩ হাজার টাকা লুট করা হয়েছে।
এছাড়া পৌরসভার সামনে একটি ভবনে কলেজ শিক্ষক ফেরদৌস আলমের বাসায় চুরির চেষ্টা চালানো হলেও স্থানীয়দের উপস্থিতি টের পেয়ে চোরেরা পালিয়ে যায়। টিএনটি এলাকায় সুমন নামের এক ব্যক্তির বাসা এবং ঢাকিরগাঁও গ্রামের একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানেও চুরির ঘটনা ঘটেছে। চলতি সপ্তাহেই একই এলাকায় আরেকটি বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও নগদ অর্থ লুটের ঘটনাও ঘটে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অধিকাংশ বাসায় সিসি ক্যামেরা না থাকায় চোরদের শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। ফলে চোরচক্র আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।
মতলব দক্ষিণ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. হাফিজুর রহমান মানিক জানান, প্রতিটি ঘটনায় পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং তদন্ত শুরু করেছে। তিনি বলেন, “এগুলো বিচ্ছিন্ন নয়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত থাকার প্রমাণ মিলছে। তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” একইসঙ্গে তিনি বাসা-বাড়িতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের পরামর্শ দেন।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় মতলব পৌরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে। দিনের বেলাতেই এমন দুঃসাহসী চুরি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা।
Sign in to your account