প্রকাশের তারিখঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ২৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:৩৬ অপরাহ্ণ

মতলবে কালবৈশাখীতে হেলে পড়েছে আধাপাকা ধান

প্রতিবেদকঃ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় টানা দুই দিনের কালবৈশাখী ঝড়ে বিপাকে পড়েছেন বোরো চাষিরা। ঝড়ো হাওয়ায় পাকা ও আধাপাকা ধান হেলে পড়েছে, পাশাপাশি নিচু এলাকার অনেক জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। এতে ফসলের ক্ষতি ও লোকসানের আশঙ্কায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দেখা গেছে, যেসব জমির ধান কাটা হয়নি, তার একটি বড় অংশ মাটির সঙ্গে লুটিয়ে পড়েছে। নিচু জমিতে জমে থাকা পানিতে ডুবে আছে ধানের শীষ। আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না ফিরলে এসব ধান দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসলামাবাদ ইউনিয়নের কৃষক আজিজ মিয়া জানান, চলতি মৌসুমে তিনি ৫ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ২ বিঘা জমির ধান কাটলেও আবহাওয়ার কারণে শুকাতে পারেননি। এরই মধ্যে ঝড়ো হাওয়ায় আরও এক বিঘা জমির ধান হেলে পড়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। “আরও বৃষ্টি হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ধান পুরোপুরি ডুবে যাবে,” বললেন তিনি।

একই চিত্র ফরাজিকান্দি ইউনিয়নেও। কৃষক আক্তার হোসেন বলেন, “এখন ধান কাটার সময়, কিন্তু দিনমজুর পাওয়া যাচ্ছে না। চুক্তি ছাড়া কেউ কাজ করছে না। বিঘাপ্রতি ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে শ্রমিক পাওয়া আরও কঠিন হয়ে যায়।”

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে ১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায় ১০ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জমি নিচু এলাকায় অবস্থিত। এসব এলাকায় ইতোমধ্যে ধান কাটা শুরু হলেও অধিকাংশ জমিতে এখনো ধান আধাপাকা অবস্থায় রয়েছে। আগামী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে পুরোদমে কাটামাড়াই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

কৃষি বিভাগ বলছে, প্রতি বিঘা জমিতে ধান উৎপাদনে খরচ হয় প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ভালো ফলন হলে প্রতি বিঘায় ২৫ থেকে ২৮ মণ ধান পাওয়া যায়। বর্তমানে বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকার মধ্যে রয়েছে।

তবে সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী। তিনি বলেন, “গত দুই দিনের ঝড়ো হাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই। আগামী কয়েকদিনের মধ্যে বৃষ্টি কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকদের হারভেস্টার মেশিন প্রস্তুত রয়েছে, দ্রুত ধান কেটে ঘরে তোলা সম্ভব হবে।”

তবুও মাঠপর্যায়ে কৃষকদের উদ্বেগ কাটছে না। বিশেষ করে নিচু জমির ধান নিয়ে শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে। আবহাওয়া পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি না হলে চলতি মৌসুমে বোরো চাষিদের একটি অংশকে লোকসানের মুখে পড়তে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।