প্রকাশের তারিখঃ ১ মে, ২০২৬ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ১ মে, ২০২৬, ৮:০৪ অপরাহ্ণ

মতলবে শুরু, খিলক্ষেতে গ্রেপ্তার, ২২ হাজার রিয়াল উদ্ধার

প্রতিবেদকঃ মাহফুজুর রহমান

চাঁদপুরের মতলব থেকে শুরু হওয়া অভিযান শেষ পর্যন্ত রাজধানীর খিলক্ষেতে গিয়ে মিলেছে সফলতায়।

রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পে এক হজযাত্রীর ২২ হাজার সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনায় জড়িত চক্রের একজনকে গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ২২ এপ্রিল সংঘটিত চুরির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই সিটি স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত শুরু করে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হাবিবুর রহমান মতলব এলাকায় অবস্থান করছেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে মতলবে অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের শুরুতেই তথ্য আসে, হাবিবুর রহমান ইতোমধ্যে বেড়িবাঁধ হয়ে কুমিল্লার দাউদকান্দির দিকে পালিয়ে গেছেন। এরপর মতলব সার্কেলের পুলিশের একটি দল তাকে অনুসরণ করতে থাকে।

দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া হয়ে ঢাকার খিলক্ষেত এলাকায় পৌঁছে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে গভীর রাতে একাধিক ভবনে তল্লাশি শেষে রাত ২টা ৪০ মিনিটে হাবিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী স্টেশন রোড এলাকা থেকে নাদিম নামে আরেক সহযোগীকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

পরবর্তীতে নাদিমের দেওয়া তথ্যে চুরির মূল পরিকল্পনাকারী আব্দুল মান্নানের গাজীপুরের বাসায় অভিযান চালানো হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার আত্মীয়ের বাসা থেকে চুরি হওয়া ১৭ হাজার ৫০০ সৌদি রিয়াল উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ আরও জানায়, চক্রটি এর আগে ৩ হাজার ৫০০ রিয়াল ভাঙিয়ে ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা উত্তোলন করে, যার মধ্যে ৯০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। এছাড়াও পলাতক আব্দুল মান্নানকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, রাজধানীর আশকোনা হজ ক্যাম্পের ভেতরে হজযাত্রীর ব্যাগ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা সমমূল্যের সৌদি রিয়াল চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন হজযাত্রীরা।

পুলিশ জানায়, চুরির ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী মো. ইমান আলীর ছেলে মো. সাইয়ন আহমেদ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা চোরচক্রের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত বুধবার হজ ক্যাম্পের ভেতরে ছদ্মবেশে প্রবেশ করে এক ব্যক্তি বাথরুমে রাখা ব্যাগ
থেকে টাকা চুরি করে পালিয়ে যায়। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, পাজামা-পাঞ্জাবি পরিহিত ওই ব্যক্তি ব্যাগ থেকে দেশি-বিদেশি মুদ্রা নিয়ে নির্বিঘ্নে বেরিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী হজযাত্রী ইমরান হোসেন অভিযোগ করেন, তার ব্যাগে ২২ হাজার সৌদি রিয়াল ও ১০ হাজার টাকা ছিল। পরে হজ অফিস থেকে তাকে ২ হাজার রিয়াল সহায়তা দেওয়া হয়। তিনি ইতোমধ্যে স্ত্রীসহ সৌদি আরবে হজ পালনে গেছেন।