
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক কনটেন্ট ক্রিয়েশনের নামে এক ধরনের অসুস্থ প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও নেটিজেনরা। তাদের অভিযোগ, কিছু কনটেন্ট নির্মাতা সৃজনশীলতা ও তথ্যভিত্তিক উপস্থাপনার পরিবর্তে অশালীনতা, কুরুচিপূর্ণ আচরণ এবং বিতর্ক সৃষ্টি করে দ্রুত জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতায় জড়িয়ে পড়ছেন।
সম্প্রতি উপজেলার ষাটনল পর্যটন কেন্দ্রে এসব ক্রিয়েটরদের মিলনমেলার খবরে নেটিজেনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখছেন, এসব ছাপরিপণা মতলবের সুনাম নষ্ঠ করছে এমনকি সামাজিক মূ্ল্যবোধেও চরমভাবে আঘাত হানছে।
স্মার্টফোন ও ইন্টারনেটের সহজলভ্যতার কারণে বর্তমানে যে কেউ ফেসবুক, ইউটিউব কিংবা টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্মে নিজের প্রতিভা প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছেন। তবে এই সুযোগের অপব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি মানসম্মত কনটেন্ট তৈরির পরিবর্তে অস্বাভাবিক আচরণ, ব্যক্তিগত ও পারিবারিক বিষয় প্রকাশ এবং আপত্তিকর উপস্থাপনাকে কনটেন্ট হিসেবে তুলে ধরছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের কয়েকজন প্রতিনিধি জানান, কনটেন্ট ক্রিয়েশন একটি সৃজনশীল মাধ্যম হলেও বর্তমানে কিছু ক্ষেত্রে তা কেবল ভিউ ও ফলোয়ার বাড়ানোর প্রতিযোগিতায় সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। গল্প, তথ্য, শিক্ষা কিংবা সামাজিক বার্তা না থাকলেও নানা ধরনের অসংলগ্ন কর্মকাণ্ডকে ‘কনটেন্ট’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয় করার সুযোগ বৃদ্ধির ফলে অনেকেই দ্রুত পরিচিতি ও আর্থিক লাভের আশায় বিতর্কনির্ভর কনটেন্ট তৈরিতে ঝুঁকছেন। ফলে মানসম্মত ও শিক্ষামূলক কনটেন্ট অনেক সময় দর্শকের নজরের বাইরে থেকে যাচ্ছে।
নেটিজেনদের একটি অংশ মনে করছেন, এ ধরনের কনটেন্ট কিশোর ও তরুণদের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তারা সৃজনশীল ও ইতিবাচক উদ্যোগের পরিবর্তে সহজে জনপ্রিয় হওয়ার প্রবণতার দিকে আকৃষ্ট হচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক চর্চার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
সচেতন মহল বলছে, মতলব উত্তরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কনটেন্ট ক্রিয়েশনের ইতিবাচক চর্চা রয়েছে। অনেক তরুণ শিক্ষা, ইতিহাস, সংস্কৃতি, কৃষি ও সামাজিক উন্নয়নমূলক বিষয় নিয়ে প্রশংসনীয় কাজ করছেন। তাই মানহীন ও বিতর্কিত কনটেন্টের পরিবর্তে গঠনমূলক এবং সমাজসচেতন কনটেন্ট তৈরিতে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি।
তাদের মতে, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সমাজের দায়িত্বশীল ব্যক্তি এবং কনটেন্ট নির্মাতাদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কারণ সাময়িক জনপ্রিয়তার চেয়ে সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহনকারী কনটেন্টই দীর্ঘমেয়াদে মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়।
Sign in to your account