প্রকাশের তারিখঃ ১৯ জুন, ২০২৬ | প্রিন্ট এর তারিখঃ ২১ জুন, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ

যুক্তরাষ্ট্রে ৬ কোটি টাকার শিক্ষাবৃত্তি পেলেন মতলবের তুলি

প্রতিবেদকঃ মাহফুজুর রহমান

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার ফতেপুর পশ্চিম ইউনিয়নের নবুরকান্দি গ্রামের মেধাবী শিক্ষার্থী সানজিদা আক্তার তুলি যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শীর্ষ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান টুলেন ইউনিভার্সিটিতে গণিত বিষয়ে ডক্টর অব ফিলোসফি (পিএইচডি) অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি অর্জন করেছেন প্রায় ৬ কোটি টাকা সমমূল্যের পূর্ণাঙ্গ (ফুল-ফান্ডেড) শিক্ষাবৃত্তি।

আগামী ২০২৬ সালের ফল সেমিস্টারে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলিন্সে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়টির স্কুল অব সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডক্টরাল প্রোগ্রামে যোগ দেবেন তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পাঠানো ভর্তি ও আর্থিক সহায়তা সংক্রান্ত চিঠি অনুযায়ী, সানজিদা প্রতি বছর স্টাইপেন্ড ও গ্রীষ্মকালীন গবেষণা সহায়তা বাবদ ৩০ হাজার মার্কিন ডলার পাবেন। পাশাপাশি তাঁর সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হবে, যার বার্ষিক মূল্য প্রায় ৬৫ হাজার মার্কিন ডলার। এছাড়া শিক্ষার্থী স্বাস্থ্যবিমার শতভাগ ব্যয়ও বহন করবে বিশ্ববিদ্যালয়।

পাঁচ বছর মেয়াদি পিএইচডি প্রোগ্রামে এসব সুবিধার মোট আর্থিক মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

একটি প্রত্যন্ত গ্রামের শিক্ষার্থী থেকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গবেষণার সুযোগ পাওয়ার এ যাত্রা সহজ ছিল না। নবুরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষাজীবন শুরু করেন সানজিদা। পরে মান্দারতলী মুজাদ্দেদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। এরপর চাঁদপুরের আল-আমিন একাডেমি থেকে এসএসসি এবং চাঁদপুর সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন।

উচ্চশিক্ষায় তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। মেধা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের ফলস্বরূপ এবার যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চশিক্ষার দুয়ার উন্মুক্ত হলো তাঁর জন্য।

সানজিদা আক্তার তুলি মতলব উত্তর উপজেলার নবুরকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মতলব উত্তর উপজেলা কৃষক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাদেকুর রহমান ও সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক অজুফা সরকারের কন্যা।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে সানজিদা বলেন, “প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থী হিসেবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণার সুযোগ পাওয়া আমার জীবনের অন্যতম বড় অর্জন। পরিবারের সহযোগিতা, শিক্ষকদের দিকনির্দেশনা এবং নিরলস পরিশ্রম আমাকে এই অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। আমি চাই গ্রামের শিক্ষার্থীরা, বিশেষ করে মেয়েরা, বড় স্বপ্ন দেখুক এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাক।”

তুলির এই অসাধারণ অর্জনের খবরে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের আবহ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, প্রত্যন্ত গ্রামের একজন শিক্ষার্থীর এমন আন্তর্জাতিক সাফল্য নতুন প্রজন্মকে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মতলবের মুখ আরও উজ্জ্বল করবে।

এদিকে, তার এই সাফল্যে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাঙ্গনের ব্যক্তিবর্গ অভিনন্দন জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, তুলির এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, বরং পুরো মতলব উত্তর, চাঁদপুর জেলা এবং দেশের জন্য গর্বের বিষয়। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গবেষণা অঙ্গনে তিনি বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শুভানুধ্যায়ীরা।