

প্রতিবেদকঃ স্টাফ করেসপন্ডেন্ট || মতলব দক্ষিণ ও দাউদকান্দির মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার খামারপাড়া এলাকায় খিরাই নদের ওপর নির্মিত একটি বেইলি সেতু ধসে পড়ার ঘটনায়। সেতুটি ভেঙে নিচ দিয়ে চলাচলরত ইটবোঝাই একটি বাল্কহেডের ওপর পড়ে গেলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। এতে বাল্কহেডে থাকা চালক, সুকানি, সহকারী এবং ১৭ শ্রমিকসহ মোট ২১ জন সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণে রক্ষা পান। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, গৌরীপুর-ভায়া পিতামুদ্দি-নায়েরগাঁও-মতলব দক্ষিণ সড়কটি প্রায় ২০ কিলোমিটার দীর্ঘ। প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে দাউদকান্দি ও মতলব দক্ষিণ উপজেলার লাখো মানুষ যাতায়াত করেন। ১৯৮০ সালে নির্মিত মূল সেতুটি ২০১৫ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলে ২০১৬ সালে সেখানে অস্থায়ী বেইলি সেতু স্থাপন করা হয়। তবে দীর্ঘদিনেও স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়া এবং কয়েক মাস আগে ধসে পড়ার পর জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করায় শেষ পর্যন্ত এই দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
দুর্ঘটনার পর সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন মতলব দক্ষিণ ও দাউদকান্দির নিয়মিত যাতায়াতকারী মানুষ। সেতু ধসে পড়ায় দুই উপজেলার মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে যাত্রী ও পরিবহন চালকদের।
বাল্কহেডে থাকা শ্রমিক কাশেম মিয়া জানান, দুর্ঘটনার মুহূর্তে সবাই প্রাণ বাঁচাতে নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে সাঁতরে নিরাপদে তীরে উঠলেও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, নগদ টাকা, ব্যাগে থাকা পোশাক, চাদরসহ প্রয়োজনীয় সব মালামাল নদীতে তলিয়ে যায়।
বাল্কহেডের মালিক ও সুকানি জুয়েল পাটোয়ারী জানান, ঢাকার জিঞ্জিরা থেকে প্রায় ৪০ হাজার ইট নিয়ে তারা শনিবার ভোরে যাত্রা শুরু করেন। সন্ধ্যায় খামারপাড়া বেইলি সেতুর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় হঠাৎ বিকট শব্দে পুরো সেতুটি ভেঙে বাল্কহেডের ওপর পড়ে। এতে সবাই প্রাণে বাঁচলেও প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের বাল্কহেডটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দুর্ঘটনায় চালকসহ চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মজনু মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বর্ষা ও টানা বৃষ্টিতে সেতুর পাটাতন মরিচা ধরে দুর্বল হয়ে পড়েছিল। মাঝেমধ্যেই পাটাতন দেবে গিয়ে ছোটখাটো দুর্ঘটনা ঘটলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রকৌশলী জাহিদ হাসান ও সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম আজাদ জানান, ঘটনাস্থলের ২০০ গজ পশ্চিমে পিতামুদ্দি বাজার এলাকায় খিরাই নদীর ওপর আরেকটি সেতু থাকায় আপাতত সেটি ব্যবহার করে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী আরও জানান, খিরাই নদীর ওপর স্থায়ী নতুন সেতু নির্মাণের লক্ষ্যে গত ২০ জুলাই ৫ কোটি ৫৩ লাখ টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। ৩০ জুলাই ঠিকাদারের কাছে প্রকল্পের সাইট হস্তান্তর করা হয়েছে। খুব শিগগিরই নতুন সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
Sign in to your account