আজ বুধবার

১১ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৬শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২২শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

রাত ৪:৫৯

মতলব-গজারিয়া ঝুলন্ত সেতুর নির্মাণ স্থান পরিদর্শন

400 Views

চাঁদপুরের মতলব উত্তরে ৪ হাজার ৭শ’ ৮৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হতে যাচ্ছে মতলব উত্তর-গজারিয়া সেতু। শীঘ্রই এই সেতুর কাজ দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সকালে মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্ল্যাপুর ইউনিয়নের জামালপুর এলাকায় প্রস্তাবিত সেতু নির্মাণস্থল পরিদর্শনকালে এ কথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, এটি একটি ‘কেবল স্টেড সেতু’- যা বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। ইতোমধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী অগ্রসর হচ্ছে। আশা করছি, আগামী বছরের প্রথমার্ধেই এই সেতুর দৃশ্যমান অগ্রগতি চোখে পড়বে। সেতুটি নির্মিত হলে এ অঞ্চলের জনগণের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ হবে এবং এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটবে। সেতুটি নির্মিত হলে মতলব উত্তর উপজেলার তথা পুরো জেলা লোকজন সরাসরি রাজধানীতে যোগাযোগ স্থাপিত হবে, যা সময় ও ব্যয় দুটোই কমিয়ে আনবে।

সেতু মন্ত্রণারয় সূত্রে জানাযায়, মতলব উত্তর গজারিয়া ঝুলন্ত সেতু নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৭৪ কোটি টাকা। এর আওতায় মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও চাঁদপুরের মতলবের মেঘনা-ধনাগোদা নদীর ওপর ঝুলন্ত সেতু নির্মিত হবে। সেতুর দৈর্ঘ্য ১.৮৫ কিলোমিটার। সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৭.৫১ কিলোমিটার (গজারিয়া অংশে ৫.৪৬০ কিলোমিটার ও মতলব উত্তর অংশে ২.০৫৫ কিলোমিটার)। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ঘ১ এর সাথে ইন্টারচেঞ্জ ডেভেলপমেন্ট ২.১ কিলোমিটার। নদী শাসন কাজের দৈর্ঘ্য ২.২ কিলোমিটার। টোল প্লাজা একটি এবং ওজন স্টেশন হবে দুইটি। ভার্টিক্যাল ক্লিয়ারেন্স হবে ২৫ মিটার। এই সেতু বাস্তবায়ন হলে জিডিপি প্রবৃদ্বির হার বাড়বে ০.২৩%। গজারিয়া-মতলব সেতুটি ঢাকা এবং চট্টগ্রাম বিভাগের মধ্যে বিকল্প সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করবে। এ সেতু নির্মাণের ফলে চাঁদপুর, লক্ষীপুর, নোয়াখালী এবং ভোলা জেলার সাথে রাজধানী ঢাকার সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে। এতে যাতায়াতের দূরত্ব সময় এবং ব্যয় হ্রাস পাবে।

সেতুটির মধ্যে নদীর মূল প্রবাহে কোন পিলার থাকবে না। এজন্য নদীর প্রবাহে কোন বাধা সৃষ্টি হবে না। সেতু নির্মাণে ই ডি সি এফ (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট কো-অপারেশন ফান্ড) কোরিয়া এক্সিম ব্যাংক সহজ শর্তে (০.০১%-০.০৫%) হারে ঋণ দিবে ৩,৫১৩ কোটি ৯৫ লক্ষ ৮৬ হাজার টাকা এবং সরকারি ঋণের পরিমাণ ৬৬০ কোটি ৭২ লক্ষ ১০ হাজার টাকা। টাকা ফেরত প্রদানের ম্যাচিউরিটি পিরিয়ড ৪০ বছর এবং গ্রেস পিরিয়ড ১৫ বছর।

পরিদর্শনকালে সড়ক ও সেতু বিভাগের যুগ্ম সচিব ভিখারুদৌল্লা, যুগ্ম সচিব নুরুল হক, ডাইরেক্টর এডমিন আলতাফ হোসেন, চাঁদপুর জেলা প্রশাসক মোহসীন উদ্দিন, ইউএনও মাহমুদা কুলসুম মনি, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সেলিম সাহেদ’সহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ