আজ শনিবার

১৪ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১লা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

২৫শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

রাত ১:৪৮

মতলবে কোমর পানিতে দাঁড়িয়ে ঈদের চাল নিচ্ছে দরিদ্ররা

52 Views

ঈদকে সামনে রেখে সরকারের দেওয়া ১০ কেজি করে চাল নিতে কোমর সমান পানিতে দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের। এমন দৃশ্য দেখা গেছে মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নর ধনাগোদা নদীর চরপাথালিয়া এলাকায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঈদের আগে অসহায় ও অতিদরিদ্র পরিবারের মাঝে সহায়তা হিসেবে সরকার ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করছে। তবে চাল বিতরণের জন্য নির্ধারিত স্থানে ট্রলার ভিড়তে না পারায় অনেকেই নদীর পানিতে নেমে ট্রলার থেকে চাল সংগ্রহ করতে বাধ্য হন। গতকাল এ ঘটনা ঘটলে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়।

চাল নিতে আসা কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, “আমরা গরিব মানুষ, কষ্ট আমাগো সহ্য অইয়া গেছে। ঈদে সরকার আমাগো মতো গরিব মানুষগো চাল দিতাছে, এইডাই বড় কথা। নদীর মধ্যে নামি চাউলের বস্তা মাথায় লইয়া আইতে কষ্ট অইবই। কিন্তু এই চাউল না নিলে আমাগো চলবো কেমনে।”

স্থানীয় বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবন ও গোডাউন থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে মতলব দক্ষিণ উপজেলার গোডাউন থেকে মালামাল এনে বিতরণ করা হয়। অনেক সময় এসব মালামাল স্থানীয় গোডাউনে সংরক্ষণ না করে নদী পার হয়ে সুলতানাবাদের পাড়ে ট্রলারের মধ্য থেকেই বিতরণ করা হয়। ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে প্রায়ই এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা লোকমান গাজী, ইদ্রিস আলী ও মোবারক উল্লাহ জানান, ধনাগোদা নদীর এই অংশে বছরের প্রায় আট মাস কচুরিপানা জমে থাকে। এতে চাল বা গমবাহী ট্রলার সরাসরি তীরে ভিড়তে পারে না। ফলে কোমর বা হাঁটু সমান পানি এবং কচুরিপানা ভেঙে ট্রলারে উঠে চালের বস্তা মাথায় করে তীরে আনতে হয়।

তারা আরও বলেন, ইলিশ রক্ষা মৌসুমে জেলেরা যখন ৪০ কেজি করে চাল-গম পায়, তখন এত ভারী বোঝা পানি ও কচুরিপানা ভেঙে তীরে নিয়ে আসা নারী-পুরুষ সবার জন্যই অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে পড়ে।

এ বিষয়ে সুলতানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব ওয়াদুদ মিয়া বলেন, কচুরিপানার কারণে ট্রলারটি নদীর পাড়ে আনতে কিছুটা সমস্যা হয়েছে। তাছাড়া মানুষও দেরি সহ্য করতে চায় না, তারা অনেক সময় ট্রলার তীরে পৌঁছানোর আগেই পানির মধ্যে ট্রলারের দিকে ছুটে যায়। চেয়ারম্যান, মেম্বার ও ট্যাগ অফিসারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নদীর পাড়েই বিভিন্ন মালামাল বিতরণ করা হয়ে থাকে।

চাল বিতরণ তদারকি কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি সকাল ১০টার পর চাল বিতরণের বিষয়টি জানতে পারেন এবং ব্যস্ততার কারণে একজন স্টাফকে সেখানে পাঠান। তবে পানির মধ্যে এভাবে চাল বিতরণ করা হবে তা তার জানা ছিল না।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মণি বলেন, “নদীতে চাল বিতরণ হওয়া খুবই দুঃখজনক বিষয়। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।”

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ