চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার নবকলস গ্রামে বাপের বাড়িতে বেড়াতে এসে ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হয়েছেন জান্নাতুল ফেরদৌসী (৩০) নামে এক নারী। ডাকাতদল তাঁকে হাত-পা ও মুখ বেঁধে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করে পালিয়ে গেছে।
বুধবার (রাত ৯টা থেকে ১০টার মধ্যে) নবকলস গ্রামের বিদেশফেরত অটোরিকশাচালক খোকন মোল্লার বসতঘরে এ ঘটনা ঘটে। ডাকাতরা ঘরের স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে প্রায় ৪ ভরি স্বর্ণ ও প্রায় ৪ লাখ টাকা নিয়ে যায় বলে পরিবারের দাবি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সন্ধ্যার পর খোকন মোল্লা বাড়ির পাশের একটি মাদ্রাসা এলাকায় ওয়াজ ও মাহফিলে অংশ নিতে যান। ওই সময় বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য ছিলেন না। ঘরে ছিলেন তাঁর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌসী এবং তাঁর দুই শিশু কন্যা, যারা ঘুমিয়ে ছিল। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে জান্নাতুল প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের প্রধান দরজা খোলা রেখে বাইরে যান। এ সুযোগে মুখোশধারী দুই ব্যক্তি ঘরে প্রবেশ করে। জান্নাতুল ঘরে ঢুকতেই দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁকে জিম্মি করে রশি দিয়ে হাত-পা বেঁধে ফেলে। চিৎকার করলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করা হয়।
এরপর ডাকাতরা ঘরের স্টিলের আলমারির তালা ভেঙে সেখানে রাখা স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে দ্রুত পালিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর ওয়াজ-মাহফিল শেষে খোকন মোল্লা বাড়িতে ফিরে ঘরের দরজা খোলা ও মেয়ের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। আলমারি ভাঙা এবং ভেতরের সব টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার খোয়া যাওয়ার বিষয়টি তখন নিশ্চিত হয়।
ভুক্তভোগী খোকন মোল্লা বলেন, “ডাকাতদের মুখে মুখোশ থাকায় আমার মেয়ে কাউকে চিনতে পারেনি। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সবকিছু ঘটে গেছে। টাকা-পয়সা ও সোনা খুইয়ে আমরা প্রায় সর্বস্বান্ত।”এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে মতলব দক্ষিণ থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে মামলা দায়ের করা হবে।
মতলব দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান মানিক বলেন,“ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”এদিকে জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ওয়াজ-মাহফিল চলাকালীন সময় এমন ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।