আজ সোমবার

৬ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২২শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২১শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

এখন সময়:

রাত ৪:২৪

মতলব উত্তরের লাবনী এখন মৌলভীবাজারের সহকারী কমিশনার

81 Views

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার কৃতি সন্তান আয়েশা আক্তার লাবনী ৪১তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে বর্তমানে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (জেনারেল সার্টিফিকেট শাখা) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই অর্জনে গর্বিত মতলববাসী।

আয়েশা আক্তার লাবনীর বাড়ি মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর পৌরসভার উত্তর শিকিরচর গ্রামে। তিনি আবদুল খালেক মিজি ও তাসলিমা বেগম দম্পতির জ্যেষ্ঠ সন্তান। দুই ভাই-বোনের মধ্যে তিনি বড়। তার ছোট ভাই তাইজুল ইসলাম বর্তমানে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগে অধ্যয়নরত।

শৈশব থেকেই মেধাবী লাবনী নারায়ণগঞ্জের পাগলার আহসান উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। ২০০৯ সালে মানবিক বিভাগ থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জনের পাশাপাশি বোর্ডের মেধা তালিকায় বৃত্তি লাভ করেন। এরপর দনিয়া কলেজ থেকে ২০১১ সালের এইচএসসি পরীক্ষাতেও জিপিএ-৫ এবং বোর্ড বৃত্তি অর্জন করেন।

পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হয়ে ২০১৬ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতক এবং ২০১৭ সালে প্রথম শ্রেণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করে শিক্ষাজীবনের ধারাবাহিক সাফল্য বজায় রাখেন।

শিক্ষাজীবনের মাঝেই ২০১১ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি মতলব উত্তর উপজেলার ষাটনল ইউনিয়নের পূর্ব লালপুর গ্রামের মো. রফিকুল ইসলামের জ্যেষ্ঠ ছেলে, ব্যাংকিং পেশায় কর্মরত মো. ফকরুজ্জামান আরিফের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন লাবনী। বর্তমানে তারা দুই কন্যা সন্তানের জনক-জননী।

পারিবারিক দায়িত্ব, মাতৃত্ব এবং উচ্চশিক্ষা—সবকিছু একসঙ্গে সামলে বিসিএসের দীর্ঘ প্রস্তুতির পথ পাড়ি দিয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে বড় মেয়ের এবং ২০২০ সালে ছোট মেয়ের জন্মের পরও পড়াশোনা ও বিসিএসের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখেন। অবশেষে ৪১তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে নিজের স্বপ্ন পূরণ করেন।

নিজের সফলতার পেছনে স্বামীর অবদানের কথা উল্লেখ করে আয়েশা আক্তার লাবনী বলেন, “যেকোনো সফলতার জন্য একজন প্রকৃত বন্ধুর প্রয়োজন। আমার স্বামী আগে আমার বন্ধু, তারপর স্বামী। তিনি সবসময় বিশ্বাস করতেন আমি একাডেমিক ফলাফলের মতো বিসিএসেও সফল হতে পারব। তার এই বিশ্বাস আমার আত্মবিশ্বাসকে আরও দৃঢ় করেছে। আজকের অর্জনে তার অবদান অনস্বীকার্য।”

তিনি আরও বলেন, “ছোটবেলা থেকেই বিসিএস ক্যাডার হয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতাম। সেই স্বপ্ন পূরণে বাবা-মা, স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের অনুপ্রেরণা আমাকে প্রতিটি কঠিন সময় অতিক্রম করতে সাহস জুগিয়েছে।”

স্বামী মো. ফকরুজ্জামান আরিফ বলেন, “আল্লাহ আমাদের বহুদিনের স্বপ্ন পূরণ করেছেন। লাবনী তার মেধা, পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এই সাফল্য অর্জন করেছে। সংসার, দুই সন্তান এবং পড়াশোনা—সবকিছু একসঙ্গে সামলে যে পরিশ্রম সে করেছে, তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। সবাই তার জন্য দোয়া করবেন, যেন দেশের মানুষের কল্যাণে আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারে।”

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ