আজ বুধবার

২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

সকাল ৭:১৪

মতলব উত্তরে রাসেল ভাইপারের দংশনে যুবক আহত

138 Views

মেঘনা নদীর পাড়ে বসতবাড়ির পাশে কারেন্ট জালে আটকে থাকা একটি বিষধর সাপ উদ্ধার করতে গিয়ে সাপের কামড়ে আহত হয়েছেন এক যুবক।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এখলাসপুর ইউনিয়নের আবাসন প্রকল্প এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় ভয়ংকর বিষধর ‘রাসেল ভাইপার’ (চন্দ্রবোড়া) সাপ নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আহত যুবক সোহেল প্রধান (৩১) এখলাসপুর গ্রামের সেলিম প্রধানের ছেলে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে দ্রুত চাঁদপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা শেষে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে নতুন বাড়িতে যাওয়ার পথে মেঘনা নদীর পাড়ে একটি কারেন্ট জালে বড় আকারের একটি সাপ আটকা পড়ে থাকতে দেখেন সোহেল। সাপটি ছটফট করছিল। মানবিক কারণে সেটিকে ছাড়ানোর চেষ্টা করলে হঠাৎ সাপটি তার হাতে কামড় দেয়। পরে তিনি সাহসিকতার সঙ্গে সাপটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে পলিথিনে ভরে বাড়িতে নিয়ে যান এবং প্লাস্টিকের পাত্রে সংরক্ষণ করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে যান।

বিশেষজ্ঞরা জানান, উদ্ধার হওয়া সাপটি অত্যন্ত বিষধর রাসেল ভাইপার, যা দেশের সবচেয়ে বিপজ্জনক সাপগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত। এর কামড় দ্রুত চিকিৎসা না পেলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত কয়েক বছরে মেঘনা নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চল, বোরচর, চরকাশিম, বাহেরচর, বাহাদুরপুর, চর উমেদ ও এখলাসপুর এলাকায় বিষধর সাপের উপদ্রব উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। গত বছরও একই এলাকায় একাধিক রাসেল ভাইপার দেখা ও নিধনের ঘটনা ঘটেছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক সময় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম না থাকায় রোগীদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তারা দ্রুত পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে এখলাসপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মফিজুল ইসলাম মুন্না ঢালী বলেন, “বর্ষা মৌসুম সামনে। এ সময় সাপের উপদ্রব বাড়ে। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাপে কামড় দিলে কোনো ধরনের ঝাড়ফুঁক নয়, দ্রুত হাসপাতালে নিতে হবে।”

মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস জানান, “বর্তমানে আমাদের হাসপাতালে তিনটি অ্যান্টিভেনম রয়েছে, যা দিয়ে তিনজন রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। আমরা আরও সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”

অন্যদিকে, চাঁদপুর জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. একেএম মাহবুবুর রহমান বলেন, “আমাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। বর্তমানে প্রায় ২০০ ডোজ সংরক্ষণ করা হয়েছে।”

স্থানীয়দের মতে, নদী ভাঙন, চর বিস্তার এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে বিষধর সাপের আবাসস্থল মানুষের বসতঘরের কাছাকাছি চলে আসছে, যা জননিরাপত্তার জন্য নতুন হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ