চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার একটি ফিলিং স্টেশনে বাসে ফুল ট্যাংক করার পরও আলাদা কন্টেইনারে জ্বালানি নেওয়ার চেষ্টা এবং বাস সরাতে অস্বীকৃতিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনরত পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা ও অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগে এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে ঠেটালিয়া বেরীবাঁধ সংলগ্ন শাহ সোলেমান লেংটা ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি নিতে আসা যানবাহনের দীর্ঘ সারি ছিল। অতিরিক্ত ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে মতলব উত্তর থানা পুলিশের একটি টিম দায়িত্ব পালন করছিল। এ সময় কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের একটি বাস নিয়ে ফিলিং স্টেশনে আসেন চালক সোহেল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বাসটিতে প্রথমে ফুল ট্যাংক জ্বালানি নেওয়া হয়। পরে আরও তিনটি কন্টেইনারে তেল নিতে চান তিনি। এদিকে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আবদুল্লাহ আল মামুন জানান, বাসে জ্বালানি দেওয়ার পর লাইনে অপেক্ষমাণ অন্য যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। তাই বাসটি সড়িয়ে নিতে বারবার অনুরোধ করা হলেও চালক তা না মেনে কন্টেইনারে তেল নিতে জোরাজুরি করেন। এতে সেখানে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইউনুস চালককে নিয়ম মেনে লাইনে আসার অনুরোধ করলে উভয়পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়।
এসআই ইউনুস বলেন, জ্বালানি সংকটের কারণে স্টেশনে যানবাহনের চাপ ছিল বেশি। তাই সবাইকে সিরিয়াল মেনে জ্বালানি নিতে বলা হচ্ছিল। কিন্তু বাসচালক নিয়ম না মেনে অতিরিক্ত তেল নিতে চাইলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
অন্যদিকে, কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষ থেকে এসআই ইউনুসের বিরুদ্ধে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
মতলব উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুল হাসান বলেন, সারাদেশের ন্যায় মতলবের শাহ সোলেমান লেংটা পেট্রোল পাম্পে জ্বালানি সংগ্রহের জন্য অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ নিয়ন্ত্রণ ও বিশৃঙ্খলা এড়াতে পুলিশের এসআই ও তার সহযোগীরা সেদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মতলব সার্কেল তদন্ত করছে।