চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সাপে কাটা রোগীদের অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য উপজেলা পরিষদের বরাদ্দ দেওয়া ৩ লাখ টাকা নিয়ে উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। অভিযোগের তীর সাবেক উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের দিকে।
জানা গেছে, মতলব উত্তরে প্রতিবছর দুই শতাধিক মানুষ সাপে কাটা নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। বিষয়টি নিয়ে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনে প্রতিবেদন প্রকাশের পর উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অ্যান্টিভেনম কেনার জন্য ৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। দ্রুত অর্থ ছাড়ের জন্য চেকটি করা হয় সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের নামে।
তবে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক আনোয়ার হোসেনের দাবি, বরাদ্দের ওই ৩ লাখ টাকা হাসপাতালের হিসাবে জমা হয়নি। এমনকি ওই অর্থে কোনো অ্যান্টিভেনমও কেনা হয়নি।
তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে সামনে রেখে যে অ্যান্টিভেনমের বাক্স দেখিয়ে ছবি তোলা হয়েছিল, সেগুলো হাসপাতালের ‘রানিং ক্যাশ’ থেকে টাকা দিয়ে কেনা হয়। সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার নির্দেশে তিনি নিজেই ওই টাকা পরিশোধ করেন এবং বিষয়টি অফিসিয়াল রেকর্ডে রয়েছে বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে, উপজেলা পরিষদে ২ লাখ ৯০ হাজার টাকার অ্যান্টিভেনম কেনার একটি রশিদ জমা দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু হাসপাতালের নথি ও ব্যাংক হিসাবে সেই কেনাকাটার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
বর্তমান উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রাজন কুমার দাস বলেন, এত টাকার অ্যান্টিভেনম কেনার কোনো তথ্য হাসপাতালের নথিতে নেই। সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা তাকে কোনো নগদ অর্থও বুঝিয়ে দিয়ে যাননি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মাহবুবুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সন্তোষজনক জবাব না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছেন।
চাঁদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ নুর আলম দীন বলেন, অভিযোগটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।