আজ বুধবার

৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

এখন সময়:

সকাল ১০:১৫

মতলব উত্তরে শাশুড়িকে হত্যা, পুত্রবধূ ও প্রেমিক গ্রেফতার

1519 Views

চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তরের বাগানবাড়ি ইউনিয়নের নতুন হাপানিয়া গ্রামে প্রবাসীর পুরুষশূন্য বাড়িতে ঘটে যাওয়া বৃদ্ধা পারুল বেগম (৭০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য ১২ ঘণ্টার কম সময়ের মধ্যে উদঘাটন করেছে পুলিশ।

পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে পুত্রবধূ হালিমা আক্তার (২৭) ও তার পাশের বাড়ির প্রেমিক আশরাফুল ইসলাম মিঠুকে (৩০) গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতের মেয়ে নুরুন্নাহার বেগম মতলব উত্তর থানায় হত্যা ও দস্যুতার মামলা দায়ের করেছেন।

রোববার (১ মার্চ) দুপুর ১২টায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুরো হত্যাকাণ্ডের ঘটনা তুলে ধরেন মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবির হুসনাইন সানীব ও থানা পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা।

পুলিশ জানায়, প্রথমে এটি ডাকাতির ঘটনা বলে ধারণা করা হলেও তদন্তে উঠে আসে পরকীয়ার সাথে সম্পর্কিত পরিকল্পিত হত্যার তথ্য। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার হালিমা আক্তার ও মিঠু হত্যার সাথে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।

পুলিশি তদন্তে জানা গেছে, প্রায় আট মাস আগে ইতালি প্রবাসী নুর ইসলামের স্ত্রী হালিমা আক্তার প্রতিবেশী অবিবাহিত যুবক আশরাফুল ইসলাম মিঠুর সাথে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন।

অন্যদিকে প্রবাসী নুর ইসলামের প্রথম স্ত্রীর সন্তান ইতালিতে বসবাসরত সোহানের সঙ্গে অনলাইন ব্যবসার কথা বলে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন। এরপর সেই টাকা ফেরত না পেয়ে মিঠু হালিমাকে ব্যবহার করে পারুল বেগমের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার ও টাকা আদায় করার চেষ্টা করেন। হালিমা রাজী না হলে মিঠু তার স্বামীকে পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জানানোর ভয় দেখান এবং হালিমাকে পরিকল্পনায় সহায়তা করতে রাজী করান।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠু গোপনে প্রবাসী নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রবেশ করেন। হালিমার মাধ্যমে পারুল বেগমকে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। এরপর মিঠু পারুল বেগমকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং স্বর্ণালংকার লুটে নেন। ঘটনার সময় হালিমা পাশে দাঁড়িয়ে থেকে সহযোগিতা করেন। পরে হত্যাকাণ্ডকে ভিন্নভাবে দেখানোর জন্য হালিমাকে হাত-পা বেঁধে রাখা হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী সাহেরা বেগম জানান, শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তিনি বাড়িতে গিয়ে শিশুদের কাছ থেকে পারুল বেগম ও হালিমার অবস্থার খবর পান। পরে ঘরে ঢুকে পারুল বেগমকে উপুড় অবস্থায় এবং হালিমাকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে আসে।

নিহতের মেয়ে ও মামলার বাদী নুরুন্নাহার বেগম অভিযোগ করেন, তাদের সংসারে কোনো অভাব ছিল না। পরকীয়ার জেরে হালিমা আক্তার তার মাকে হত্যা করেছে এবং পুরো পরিবারকে ধ্বংস করেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হলে তাদের পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment

শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ