চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার গজরা ইউনিয়নের মৈশাদী গ্রামে প্রবাসী স্বামীকে রেখে এক তরুণীর প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে বিয়ের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে তরুণীর পরিবার। তাদের দাবি, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, উপজেলার গজরা ইউনিয়নের মৈশাদী গ্রামের মো. মজিল প্রধানের মেয়ে মরিয়মের সঙ্গে ফতেপুর ইউনিয়নের মাইজকান্দি গ্রামের সিঙ্গাপুরপ্রবাসী শরিফুল ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের কিছুদিন পর স্বামী বিদেশে চলে গেলে মরিয়মের সঙ্গে একই ইউনিয়নের গজরা গ্রামের লিটনের ছেলে লিমনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই মরিয়ম ও লিমন বাড়ি থেকে একসঙ্গে চলে যান। পরে মরিয়মের পরিবারের পক্ষ থেকে মতলব উত্তর থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়।
নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে সোমবার (২০ জুলাই) ঢাকার সাভার এলাকা থেকে ওই তরুণী ও লিমনকে উদ্ধার করে মতলব উত্তর থানা পুলিশ। অভিযানে নেতৃত্ব দেন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাধব চন্দ্র।
উদ্ধারের পর লিমন সাংবাদিকদের বলেন, “মরিয়মের অন্যত্র বিয়ের আগ থেকেই আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আমি তাকে অনেক ভালোবাসি। আমরা দুজনই নিজেদের ইচ্ছায় বিয়ে করেছি। এখন সে আমার স্ত্রী।”
তবে মরিয়মের বাবা মো. মজিল প্রধান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। অযথা আমাদের বিরক্ত করা হচ্ছে।”
এদিকে প্রবাসী স্বামী শরিফুল ইসলামের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মতলব উত্তর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাধব চন্দ্র বলেন, “মরিয়মের কাকা আলীর করা নিখোঁজ ডায়েরির ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সাভার থেকে ছেলে ও মেয়েকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
ঘটনাটি নিয়ে মতলব উত্তরজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ঘটনার প্রকৃত বিষয়টি স্পষ্ট হবে।