চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় ২০২৬ সালের এসএসসি, দাখিল ও এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার ফলাফলে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। তিন ধারায় মোট ৩ হাজার ৫২৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৯৯২ জন। হিসাব অনুযায়ী সামগ্রিক পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬.৪৪ শতাংশ। মোট জিপিএ-৫ এসেছে ৫২ জন শিক্ষার্থী।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ফলাফল সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠানো হয়। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস থেকে প্রকাশিত প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য জানা গেছে।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় মতলব উত্তর উপজেলার ৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২ হাজার ৮৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১ হাজার ৬৫৭ জন। হিসাব অনুযায়ী পাসের হার ৫৮.৫০ শতাংশ। এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪৬ জন শিক্ষার্থী।
ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের ফলাফল তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির ২২৩ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১০১ জন। পাসের হার ৪৫.২৯ শতাংশ।
অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে এগিয়ে রয়েছে চরকালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে সর্বোচ্চ ৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয় ও নাউরী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন করে।
পাসের হারে সর্বোচ্চ এগিয়ে রয়েছে জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৭০ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯১.৪৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
এরপর রয়েছে দশানী মোহনপুর উচ্চ বিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠানটির ৭৬ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৬৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৮৮.১৮ শতাংশ। এ প্রতিষ্ঠান থেকেও জিপিএ-৫ পেয়েছে ২ জন।
দাখিলে সবচেয়ে নাজুক ফল
মতলব উত্তর উপজেলার দাখিল পরীক্ষার ফলাফলে সবচেয়ে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার ১২টি মাদ্রাসা থেকে মোট ৪৭২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ১৮৭ জন। ফলে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৩৯.৬১ শতাংশে।
দাখিল পরীক্ষায় এবার কোনো শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পায়নি।
উপজেলার অন্যতম প্রতিষ্ঠান ফরাজীকান্দি ওয়েসীয়া মাদ্রাসায় ৩০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ৭ জন। প্রতিষ্ঠানটির ফলাফলও সামগ্রিক দাখিল ফলাফলের দুর্বল চিত্রকে স্পষ্ট করে।
ভোকেশনালে সবচেয়ে ভালো ফল
অন্যদিকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষায় তুলনামূলক ভালো ফল করেছে মতলব উত্তর উপজেলা। উপজেলার ৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ২২২ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৪৮ জন। পাসের হার ৬৬.৬৭ শতাংশ।
এ বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৬ জন শিক্ষার্থী। তিন ধারার পরীক্ষার মধ্যে এসএসসি (ভোকেশনাল)-এই সর্বোচ্চ পাসের হার অর্জিত হয়েছে।
ফলাফল নিয়ে উদ্বেগ, নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ
সামগ্রিক ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, মতলব উত্তরে তিন ধারার পরীক্ষায় পাসের হার ৫৬ শতাংশের কিছু বেশি। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিশেষ করে দাখিল পরীক্ষায় ৪০ শতাংশেরও কম শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হওয়ায় মাদ্রাসা শিক্ষার মান নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফলাফল পর্যালোচনা করে দুর্বল ফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো চিহ্নিত করা জরুরি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি, পাঠদানের মান, বিষয়ভিত্তিক দুর্বলতা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর একাডেমিক যোগাযোগ এবং পরীক্ষার প্রস্তুতির বিষয়ে আরও কার্যকর নজরদারি প্রয়োজন।
সচেতন মহল বলছে, শুধু পরীক্ষার ফল প্রকাশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে কোন প্রতিষ্ঠানে কেন ফলাফল খারাপ হচ্ছে, তার কারণ চিহ্নিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে ভালো ফল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষাদান পদ্ধতি ও একাডেমিক ব্যবস্থাপনাও অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।