জেলা পর্যায়ে শীর্ষে মতলবের কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল

83 Views

চাঁদপুর জেলা পর্যায়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উজ্জ্বল সাফল্য দেখিয়েছে মতলব দক্ষিণ উপজেলার কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল। ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৩ জন উত্তীর্ণ হয়ে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৯৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ। এর মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৩ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৩১ দশমিক ০৮ শতাংশ।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, চাঁদপুর জেলার শীর্ষ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গড় পাসের হারে কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল রয়েছে সামনের সারিতে।

শতভাগ পাসের সাফল্য পেয়েছে শহরের ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও ফরিদগঞ্জ পাইলট গার্লস হাইস্কুল। এরপরই গড় পাসের হারে শীর্ষস্থানে রয়েছে মতলবের কেএফটি কলেজিয়েট স্কুল।

কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের এবারের ফলাফল বিশেষভাবে নজর কেড়েছে জিপিএ-৫ অর্জনের দিক থেকেও। মাত্র ৭৪ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২৩ জনের জিপিএ-৫ অর্জন প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান ও ধারাবাহিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরেছে।

চাঁদপুরের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জিপিএ-৫ এর সংখ্যায় এগিয়ে রয়েছে আল-আমিন একাডেমি। প্রতিষ্ঠানটির ৮৩৫ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৭৮৪ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৯৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১৯ জন, যা মোট পরীক্ষার্থীর ২৬ দশমিক ২৩ শতাংশ।

অন্যদিকে মাতৃপীঠ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৩৭ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ২২৯ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৬ দশমিক ৬২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটির ১০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে, যা মোট পরীক্ষার্থীর ৪৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ। মোট পরীক্ষার্থীর অনুপাতে জিপিএ-৫ অর্জনের হারে চার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে মাতৃপীঠ।

মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের ফলাফলেও উন্নতি
এবারের ফলাফলে মতলব দক্ষিণ উপজেলার আরেক ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ও গতবারের তুলনায় ভালো করেছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট ১৫৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৩৪ জন। পাসের হার ৮৪ দশমিক ৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২১ জন।

একইভাবে মতলবগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ফলাফলও আগের তুলনায় উন্নতির চিত্র তুলে ধরেছে। ফলে মতলব দক্ষিণের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের ফলাফল উন্নয়নের ধারাটি এবারও দৃশ্যমান হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেএফটি কলেজিয়েট স্কুলের মতো প্রতিষ্ঠানের ভালো ফলাফল যেমন মতলবের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন আশার সঞ্চার করেছে, তেমনি মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয়সহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের ফলাফলে উন্নতিও ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।

মতলব জেবি সরকারি উচ্চবিদ্যালয় ও মতলবগঞ্জ বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ফলাফল উন্নয়নে প্রতিষ্ঠান দুটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কে. এম. ইশমামের প্রশাসনিক সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সমন্বিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রশাসনিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী দিনে মতলবের শিক্ষাঙ্গনে আরও ভালো ফলাফল অর্জন সম্ভব হবে। এর মাধ্যমে মতলব তথা এলেমগঞ্জের হারানো শিক্ষাগৌরবও পুনরুদ্ধার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তারা।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment
শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!