মতলব উত্তরে ১৬ সরকারি দপ্তর প্রধানের পদশূন্য, কার্যক্রমে ধীরগতি

44 Views

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতরে কর্মকর্তা ও প্রধান পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। পাশাপাশি উপজেলার ১৮০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ১১৭টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রম, জনসেবা ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় তৈরি হয়েছে বাড়তি চাপ।

উপজেলা পরিষদ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সহকারী কমিশনার (ভূমি), মৎস্য, মাধ্যমিক শিক্ষা, পরিসংখ্যান, বিআরডিবি, হিসাবরক্ষণ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, মহিলা বিষয়ক, সমাজসেবা, প্রাথমিক শিক্ষা, কৃষি সম্প্রসারণ, আইসিটি, ভেটেরিনারি ও বন বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদসহ কয়েকটি দফতরে কর্মকর্তা সংকট রয়েছে। কোনো কোনো দফতর অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের নিজ কর্মস্থলের পাশাপাশি মতলব উত্তরেও দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। ফলে নিয়মিত উপস্থিতি, মাঠপর্যায়ের তদারকি, দাফতরিক সিদ্ধান্ত ও উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বাভাবিক গতি থাকছে না। সরকারি সেবা নিতে এসে অনেক সময় কর্মকর্তাকে না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

শিক্ষা খাতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ১১৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক না থাকায় ভারপ্রাপ্তদের দিয়ে কার্যক্রম চলছে। এছাড়া ১১টি উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য। উপজেলার একমাত্র সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ছেংগারচর সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়েও নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছেংগারচর সরকারি ডিগ্রি কলেজেও অধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে।

এদিকে মতলব উত্তর থানায় ওসি (তদন্ত) পদ শূন্য থাকায় তদন্ত কার্যক্রমেও জনবল সংকটের প্রভাব পড়ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একাধিক চিকিৎসকের পদ শূন্য রয়েছে। এতে উপজেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে কর্মরত চিকিৎসকদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি আব্দুল বাতেন বলেন, প্রধান শিক্ষক ছাড়া এতগুলো বিদ্যালয় পরিচালনা করা বড় চ্যালেঞ্জ। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের একই সঙ্গে পাঠদান ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। দ্রুত শূন্য পদে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রয়োজন।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ফারুকুল ইসলাম বলেন, প্রধান শিক্ষক প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা বিভাগের মধ্যে সমন্বয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন পদ শূন্য থাকলে প্রতিষ্ঠানের সার্বিক কার্যক্রমে প্রভাব পড়াটাই স্বাভাবিক।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জামাল হোসেন বলেন, প্রধান শিক্ষকবিহীন বিদ্যালয়গুলোতে ভারপ্রাপ্তদের মাধ্যমে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। তবে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক থাকলে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রয়েছে। অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মাধ্যমে আপাতত কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা চলছে। শূন্য পদগুলোতে দ্রুত কর্মকর্তা পদায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। জনগণ যাতে হয়রানি ছাড়াই সরকারি সেবা পান, সে বিষয়ে উপজেলা প্রশাসন গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের দাবি, অতিরিক্ত দায়িত্বের মাধ্যমে দীর্ঘদিন একটি উপজেলা পরিচালনা না করে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দফতর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, থানা ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শূন্য পদগুলো দ্রুত পূরণ করতে হবে। তাদের মতে, পূর্ণকালীন কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধান ছাড়া কাঙ্ক্ষিত জনসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment
শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!