সাবেক এমপি ও বিমান বাহিনী প্রধান রফিকুল ইসলামের দাফন সম্পন্ন

59 Views

চাঁদপুর-২ (মতলব উত্তর-দক্ষিণ) আসনের সাবকে সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর সাবেক প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারের প্যারেড গ্রাউন্ডে এই জানাজা ও ফিউনারেল প্যারেড অনুষ্ঠিত হয়। তিনি চাঁদপুর-২ আসন থেকে ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এর আগে বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) মারা যান তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, আজ সকালে প্যারেড গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত ফিউনারেল প্যারেডে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাইজার সোহেল আহমেদ উপস্থিত থেকে মরহুমের কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শেষ শ্রদ্ধা জানান।

অনুষ্ঠানে মরহুমের পরিবারের সদস্যবৃন্দ, সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ এবং সামরিক বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মরহুমের সম্মানার্থে বিমান বাহিনীর একটি চৌকস দল সম্মানসূচক ‘ফ্লাই পাস্ট’ প্রদর্শন করে। ফিউনারেল প্যারেড শেষে সাবেক এই বিমান প্রধানকে বিমান বাহিনী ঘাঁটি বাশারে অবস্থিত শাহীন কবরস্থানে পূর্ণ সামরিক মর্যাদায় দাফন করা হয়।

এয়ার ভাইস মার্শাল মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম ১৯৫২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চাঁদপুরের মতলব থানার বাইশপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৬৭ সালে পিএএফ কলেজ সারগোদা থেকে সিনিয়র ক্যামব্রিজ সম্পন্ন করেন এবং ১৯৭১ সালে পেশোয়ার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রি নেন।

১৯৬৮ সালের ২ আগস্ট তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনী একাডেমিতে যোগ দেন এবং ১৯৭১ সালের ১৩ মার্চ জিডি(পি) শাখায় কমিশন লাভ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ২৯ মে তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে যোগদান করেন।

চৌকস এই বৈমানিক তার সুদীর্ঘ কর্মজীবনে পিটি-৬, টি-৬জি, এয়ার ট্যুরার, এএন-২৪/২৬, বেল-২০৬, ফুগা, এসএফ-২৫সি এবং এএন-৩২ বিমানে ৫ হাজার ঘণ্টারও বেশি সময় সফলতার সঙ্গে উড্ডয়ন পরিচালনা করেছেন।

কর্মজীবনে তিনি ৩ নম্বর স্কোয়াড্রন ও এফআইএসের অধিনায়ক, বিমান বাহিনী একাডেমির প্রধান প্রশিক্ষক, বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান ও বাশার ঘাঁটির এয়ার অধিনায়ক, ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের এয়ার ডিএস, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের ডিফেন্স অ্যাটাশে এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের ৩ জুন তিনি বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রধান হিসেবে নিযুক্ত হন। দীর্ঘ ৩১ বছর ২৫ দিন সেবা দেয়ার পর ২০০২ সালের ৮ এপ্রিল তিনি চাকরি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment
শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!