বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা তুলে ধরলেন মতলবের বক্সার জিদান

90 Views

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার প্রত্যন্ত বদরপুর গ্রামের ছেলে মো. রাহেমু ইসলাম জিদান। মুষ্টির লড়াইয়ে একের পর এক সাফল্য পেরিয়ে দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজের সামর্থ্যের জানান দিচ্ছেন এই তরুণ উদীয়মান অ্যামেচার বক্সার।আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করে ইতোমধ্যে দেশের জন্য পদকও এনে দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ চলতি মাসে চীনের হাইনান প্রদেশের সানিয়ায় অনুষ্ঠিত এশিয়া প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়নশিপ (ISKA) ২০২৬-এ অ্যামেচার বক্সিং বিভাগে বাংলাদেশের জাতীয় দলের হয়ে অংশ নেন জিদান। প্রতিযোগিতায় দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে তিনি তৃতীয় স্থান অর্জন করে বাংলাদেশের জন্য পদক নিশ্চিত করেন।

মতলব উত্তরের বদরপুরের এই তরুণের আন্তর্জাতিক সাফল্যের তালিকা অবশ্য এখানেই শেষ নয়। এর আগে রাশিয়ার এক খ্যাতিমান বক্সারকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন তিনি। তার পারফরম্যান্স নিয়ে রাশিয়া ও চীনের বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও প্রশংসা প্রকাশ পেয়েছে।

বক্সিং বিশ্লেষকদের বর্ণনায়, জিদানের অন্যতম বড় শক্তি তার আক্রমণাত্মক লড়াইয়ের ধরন। প্রতিপক্ষকে সুযোগ না দিয়ে তিনি ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালিয়ে যেতে পারেন। রক্ষণাত্মক কৌশলের চেয়ে আক্রমণকে বেশি গুরুত্ব দেন এই বক্সার। একই সঙ্গে প্রতিটি রাউন্ডে প্রায় সমান শক্তি ও গতি ধরে রাখার সক্ষমতাও তার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

জিদানের লড়াইয়ের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো তার ফুটওয়ার্ক। ডান পায়ের পাশাপাশি বাম পা দিয়েও দ্রুত এগিয়ে গিয়ে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ তৈরি করতে পারেন তিনি। ফলে প্রতিপক্ষের জন্য তার গতিবিধি অনুমান করা কঠিন হয়ে পড়ে। দেশের মাটিতেও বিভিন্ন নকআউট চ্যালেঞ্জ ও অ্যামেচার ফাইটে অংশ নিয়ে একাধিকবার সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও বড় মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের অপেক্ষায় রয়েছেন জিদান। আগামী মাসে যুক্তরাষ্ট্রেও তার একটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

২০০৭ সালের ৩ অক্টোবর চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বদরপুর গ্রামে জন্ম জিদানের। তার বাবা ইরফান পাঠান ও মা রাজিয়া পাঠান। দুই ভাইয়ের মধ্যে জিদান বড়। ধানমন্ডি অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেছেন তিনি।

নিজের সাফল্য ও আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের অনুভূতি জানিয়ে জিদান বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পেরে এবং মাথা উঁচু করে দেশের পতাকা উড়াতে পেরে তিনি নিজেকে গর্বিত ও ধন্য মনে করেন।

ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের সম্মানকে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে চান তিনি।
জিদানের বাবা ইরফান পাঠান ও মা রাজিয়া পাঠানের চোখেও এখন গর্বের ঝিলিক। তারা বলেন, এমন একজন সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখাতে পেরে তারা গর্বিত।

তাদের প্রত্যাশা, জিদান ভবিষ্যতে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উড়াবেন।
মতলবের বদরপুর থেকে আন্তর্জাতিক বক্সিংয়ের মঞ্চ।জিদানের এই পথচলা যেন শুধু একজন তরুণের সাফল্যের গল্প নয়; এটি সম্ভাবনাময় এক বক্সারের হাত ধরে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের পরিচয় তুলে ধরার গল্প।

TAGGED:
Share This Article
Leave a Comment
শেয়ার করুন:

শীর্ষ সংবাদ

সর্বশেষ সংবাদ

error: Content is protected !!